home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ক্যান্সারে জরায়ু না ফেলেই মৃত্যুঝুঁকি এড়ান
১০ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  cancer prevent  about cancer  uterus  uterus cancer  
  Viewed#:   429

uterus cancerমাতৃত্ব ও নারীত্বের জন্য অপরিহার্য এবং নারীদের সংবেদনশীল অঙ্গ জরায়ু। শতকরা ৫০ ভাগের বেশি নারীই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে জরায়ু মুখের ক্ষত (Cervicitis) ও প্রদাহে (Cervical Erison) ভুগে থাকেন। আর এই জরায়ু মুখের ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ।বিশ্বে দৈনিক গড়ে সাতশ নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন এবং প্রতি বছর নতুন করে ৫০ লাখ নারী এতে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার নারী নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১০ হাজার জন এ রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৭ জন নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন।

বাচ্চা প্রসব, গর্ভপাতের (এমআর, ডিঅ্যান্ডসি) পর অথবা যেকোনো সময় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাসের সংক্রমণ, বাহ্যিক আঘাত, জন্ম বিরতিকরণ রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও ঋতুস্রাব চলাকালীন ব্যবহার্য বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জরায়ু মুখের প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আর যখন জরায়ু মুখের বাইরের দৃঢ় শক্ত আবরণী (Squamous Epithelium) অভ্যন্তরীণ পাতলা আবরণী (Columnar Epithelium) দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়, তখন ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী জীবাণু সংক্রমণ কোনো কোনো সময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

যৌন-সক্রিয় প্রতিটি নারীই অপরিচ্ছন্ন যৌন আচরণ ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।সাধারণত, সংক্রমণের শুরু থেকে ২০ বছরের মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ১৫ থেকে ৬০ বছরের নারীদের জরায়ু মুখের প্রদাহ, ক্ষত ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট জীবাণু গুলোর মধ্যে শুধু এইচপি (hp) ভাইরাসের প্রতিরোধক টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।ক্ষত বা প্রদাহের লক্ষণ:</strong>মাসিকের রাস্তায় অতিরিক্ত স্বচ্ছ বা হলদেটে স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব বা লিকোরিয়া, সহবাসের সময় ব্যথা, সহবাসের সময় রক্তপাত, জননাঙ্গে চুলকানি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জরায়ুর বাহ্যিক অবস্থান বা আকার পরিবর্তন, কোমড়ের পেছনে ব্যথা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

প্রতিক্রিয়া
জরায়ু, ডিম্বনালী, ডিম্বাশয় প্রদাহসহ বন্ধাত্ব দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হলে গর্ভপাত, অকাল প্রসব ছাড়াও নবজাতকের নিমোনিয়া ও চোখের সংক্রমণ হতে পারে।

রোগ নির্ণয়
ব্যথামুক্ত ও সাশ্রয়ী কল্পোস্কপি পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়। বিবাহিত নারীদের প্রত্যেকেরই প্রতি দুই বছরে একবার এ পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

চিকিৎসা:
প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ও সমজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বারবার প্রচলিত চিকিৎসা করেও যখন রোগীর আরোগ্য লাভ হয় না, তখন সাধারণত নারীদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জরায়ু কেটে ফেললে যেসব সমস্যা হয়

সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা, বদরাগী বা বদমেজাজি হওয়া, মুখে চুলের বৃদ্ধি, জয়েন্ট ও হাড়ে ব্যথা, চামড়া কুচকে যাওয়া, স্ত্রীলিঙ্গে দীর্ঘায়িত রক্তক্ষরণ, অনুভূতি কমে যাওয়া ও শুষ্কতা বা ভ্যাজাইনাল লুব্রিকেন্টের অনুপস্থিতি, যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, মাতৃত্ব আবেগের ক্ষতি, স্নায়ুবিক দুর্বলতা ও স্মৃতি অবক্ষয়, আত্মহত্যার চিন্তা, সহবাসের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি, মূত্রনালীতে ঘা, স্ত্রীলিঙ্গের এবং স্তনবৃন্তের অনুভূতি কমে যাওয়া। আর এসব কারণে দাম্পত্য ও সংসার জীবনে নেমে আসে সীমাহীন যন্ত্রণা ও অশান্তি।

তবে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো জরায়ু কেটে না ফেলে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেও হচ্ছে। কাটা-ছেঁড়া ছাড়া, রক্তপাতহীন ও ঝুঁকিমুক্ত অত্যাধুনিক লেজার ভেপোরাইজেশন পদ্ধতির চিকিৎসা। এ পদ্ধতিতে জরায়ু অপসারণ বা কেটে না ফেলে নারীত্ব ও মাতৃত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।


সূত্র -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: কানের সমস্যা
Previous Health Tips: কর্মজীবী-করপোরেট নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')