একজন পুরুষ মরণব্যাধি প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত কিনা ডিএনএ পরীক্ষাই তা বলে দিতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ কথা জানান।
শুক্রবার লন্ডনের ইন্টস্টিটিউট অফ ক্যান্সার রিসার্চ এর একদল বিজ্ঞানীর উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। তাতে বলা হয়, নারীদের স্তন ক্যান্সারের বিষয়টি যেভাবে ধরা যায়, একইভাবে পুরুষরাও তার ক্যান্সারের বংশগত বিষয়টি দ্রুত জানতে পারবে।
গবেষণা দলটির বিজ্ঞানী ড. সোফিয়া কোটে জারাই বলেন, “প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষ এবং যেসব পুরুষ তাদের পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে উদ্বিগ্ন এই দু্ইজনকে তিন বছর ধরে আমি শনাক্ত করার কথা বলতে পারি।”
তিনি বলেন, এ সময়ে “তারা আলাদা আলাদা ১৪টি বিকার ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। যেগুলো আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যান্সারের বিচ্ছিন্ন বিকারগুলো ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রোস্টেট ক্যান্সার ইউকে জানায়, এ ধরনের ডিএনএ পরীক্ষা পুরুষের রক্ষাকে ‘বিপ্লবী’ ভূমিকায় নিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই প্রোস্টেট ক্যান্সার একটি সাধারণ ক্যান্সার রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এসব দেশে ৪০ হাজারেরও বেশি রোগী ক্যান্সার পরীক্ষা করে থাকে।
কিন্তু সব রোগীরই এমন সব মারাত্মক পরীক্ষা ও থেরাপির প্রয়োজন হয় না যাতে ভয়াবহ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিএনএর টেস্টের এ আবিষ্কারের ফলে এসব মারাত্মক কষ্টকর থেরাপির ভোগান্তি থেকে রোগীকে নিষ্কৃতি দেয়া সম্ভব হতে পারে। কারণ তাতে আগেই ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষকরা প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৯১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। সেইসাথে একই রোগে আক্রান্ত কমপক্ষে ৩টি পরিবারের সাথে গভীরভাবে ঘনিষ্ট হন গবেষকরা।
এসময় সবাইকেই তাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিকারগুলোর জন্য পরীক্ষা করা হয়। এরসাথে ডিএনএ পরিবর্তনে যুক্ত বিপজ্জনক বিআরসিএ জিনগুলোও পরীক্ষা করা হয়।
এরপর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এসব পুরুষ মারাত্মক প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত। যা ইতোমধ্যে তাদের পুরো শরীরে নিগূঢ়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
গবেষণাটি ব্রিটিশ জার্নাল অফ ক্যান্সারে প্রকাশিত হয়। এতে দেখানো হয়, ১৪টি উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ বিকারের একটিই রয়ে গেছে ৭ শতাংশ পুরুষের মধ্যে।
সূত্র -poriborton.com

