তবে কি সমাধান হাতের কাছেই? বহুদিন ধরেই তো চলছে গবেষণা, কিন্ত্ত এখনও সমাধান অধরাই৷ বিজ্ঞানীদের 'মোনোরেল' থেরাপিই হয়তো ক্যান্সারের সম্ভাব্য জবাব৷ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু৷ এই প্রবাদকে হাতিয়ার করেই ক্যান্সারের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের পথে জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এক দল গবেষক৷ তাদের বানানো সূক্ষ্ম ন্যানোফাইবার ক্যান্সারের টিউমারগুলিকে আকৃষ্ট করে বয়ে নিয়ে আসবে বিষাক্ত জেলের মধ্যে৷ এই জেলের মধ্যেই ধ্বংস হবে ক্ষতিকারক টিউমার৷ কিছুক্ষেত্রে টিউমারগুলিকে নিয়ে আসা হবে শরীরের এমন কোনো স্থানে, যেখানে সহজে অস্ত্রোপচার করেই সেগুলো নির্মূল করা সম্ভব৷ মনোরেলের মতো একই লাইন ধরে টিউমারগুলি তাদের নিয়তির দিকে এগিয়ে আসবে বলেই এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দেয়া হয়েছে 'ক্যান্সার মনোরেল'৷ গবেষকদের দাবি, মস্তিষ্কের জটিল ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর হবে৷
'নেচার মেটিরিয়ালস'-এ প্রকাশিত রিপোর্টে ন্যানোফাইবার টেকনোলজির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে৷ গবেষক রবি বেল্লামকোন্ডার বক্তব্য, 'মস্তিষ্কের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সাধারণত নার্ভ বা রক্তজালিকার মধ্য দিয়ে টিউমারগুলি মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে৷ এক্ষেত্রে বিকল্প ফাইবার তৈরি করা হবে৷ কৃত্রিম সেই ফাইবার সাধারণ রক্তজালিকা বা নার্ভের থেকে অনেক বেশি 'আকর্ষণীয়'৷ টিউমারগুলি তাই স্বাভাবিক রক্তজালিকা ছেড়ে কৃত্রিম এই ফাইবারের মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে৷ সেখানে থাকা বিষাক্ত জেল নষ্ট করে দেবে টিউমারটিকে৷ এটা আসলে টিউমারে ওষুধ প্রয়োগ নয়, বরং টিউমারকে আকৃষ্ট করে ওষুধের দিকে নিয়ে আসা৷'
গবেষকদের দাবি, এর ফলে ক্যান্সার পুরোপুরি নির্মূল না হলেও টিউমারের সংখ্যাবৃদ্ধি আটকানো যাবে৷ আর টিউমারগুলির আকারও ক্রমশ ছোট হবে৷ সম্প্রতি ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই চিকিৎসা পদ্ধতি৷ তাতে দেখা গিয়েছে, যে সব ইঁদুরের শরীরে ক্যান্সার মোনোরেল প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের টিউমারের আকার অন্যান্য ক্যান্সার আক্রান্ত ইঁদুরের শরীরের টিউমারের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ কম৷ বেল্লামকোন্ডার দাবি, এর ফলে ক্যান্সার মানুষের কাছে ডায়াবেটিসের মতো রোগে পরিণত হবে৷ পুরোপুরি নির্মূল না হলেও দিব্য বেঁচে থাকবেন রোগী৷
গবেষণা এখনও প্রাথমিকস্তরেই৷ ইঁদুরে সাফল্য মিললেও মানবদেহে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়৷ উপরন্ত্ত, এই পদ্ধতিতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে টিউমারের পার্শ্ববর্তী কোষগুলিও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কোনও কোষ নষ্ট হয়ে গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে৷
বৃটেনের ক্যান্সার গবেষক এমা স্মিথের কথায়, 'এই পদ্ধতিতে যদি শুধুমাত্র ক্ষতিকারক টিউমার নিরাময় করা যায়, তবে তা ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে৷ মানবদেহে ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর, তা জানতে সময় লাগবে৷' – সংবাদসংস্থা
সূত্র - natunbarta.com

