আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বায়ু দূষণের কারণে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত শিশুরা অন্যান্য শিশুদের চাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক বেশি। এদের মধ্যে তাই অনেক বেশি পরিমাণে বার বার অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন সর্দিকাশি আর জ্বর হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুদূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে কোথাও কোথাও অ্যাসিড বৃষ্টিও হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের দুর্বলতা বৃদ্ধি ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাসের জন্যে দায়ী। এছাড়া বাতাস, খাদ্য আর পানির মাধ্যমে মানবদেহে সীসা প্রবেশ করে যার ফলে শিশুদের হাড় ও স্নায়বিক কাঠামো গঠন ও দৈহিক-মানসিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং লিভার ও কিডনিরও ক্ষতি করে।
আবার ঘরে সৃষ্ট দূষিত বাতাসও শিশুদেরকে শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশি-জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত করে। সিগারেট ও রান্নার ধোঁয়া, কুকুর, বিড়াল, তেলাপোকা, ইঁদুর, আবর্জনা ও ধূলিকণা, ছত্রাক, কালিঝুলি, মাটির গুঁড়া ইত্যাদি ঘরের বাতাসকে দূষিত করে। তাই ঘরের ভেতরে বায়ুদূষণ থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য তাদের পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে আনা উচিত নয়।
প্রতিবেদনটিতে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ধূমপানকেও মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই শিশুদের কথা চিন্তা ধূমপায়ীদের প্রতি ধূমপান ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে গবেষকেরা বলেছেন, ‘যারা এই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবেনই না, তারা বাড়ির বাইরে গিয়ে ধূমপান করুন।’ এছাড়া ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ না রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস চলাচল যেন করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আর যাদের অ্যালার্জি বা ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা আছে তাদের ঘরের বাইরে ধূলাযুক্ত পরিবেশ বা যানবাহনপূর্ণ এলাকায় বেশিক্ষণ থাকা উচিত নয়।
আবার পানিদূষণেও কিন্তু কম ঝুঁকি নেই।
আইসিসিডিআরবি’র সূত্র অনুযায়ী, দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়েরিয়া হওয়ার ফলে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার শিশু মারা যায়। ডায়েরিয়ার কারণে মৃত শিশুদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়েসের শিশুমৃত্যুর হার বেশি। পানিতে বিভিন্ন ধাতু, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, জৈববিষ ও বিষাক্ত তেল ফেলা, মানুষ ও পশুপাখির মলমূত্র ত্যাগ, হাসপাতালের আবর্জনা যেমন ইনজেকশনে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা রোগীর ব্যবহৃত গজ-ব্যান্ডেজ ইত্যাদি নিক্ষেপ, কৃষিজমিতে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক সেচের পানি বা বৃষ্টির পানিতে মিশে পুকুর, নালা, খাল বা নদীতে নির্গমনের মাধ্যমে পানিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা বিষ ইত্যাদি মিশ্রিত হওয়াসহ নানা কারণে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ে। বিষাক্ত এই পানি চুইয়ে মাটির নিচে পৌঁছায় এবং ভূগর্ভস্ত পানিকেও দূষিত করে।
এসব কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন কলেরা, ডায়েরিয়া, আমাশয়, পোলিও, মেনিনজাইটিস, হেপাটাইটিস-এ ও হেপাটাইটিস-ই ইত্যাদি দেখা দেয়। তাছাড়া বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান মিশে যাওয়ায় হৃদরোগসহ রক্তচলাচল ব্যবস্থা ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ত্বকের নানারকম সমস্যা এবং ডেঙ্গু জ্বর ইত্যাদিও হয়।
এসব বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তাই নানাধরনের জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকতে এসব বিষয়ে সচেতন হোন এখনই। সূত্র: ওয়েবসাইট

