দেশের মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্য-ব্যয় বেড়ে ২৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে খরচ করে। চিকিৎসা-ব্যয় মেটাতে গিয়ে বছরে ৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে জাতীয় কর্মশালায় এই তথ্য দেওয়া হয়। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনোমিকস ইউনিট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিআইজেড দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে।
হেলথ ইকোনোমিকস ইউনিটের মহাপরিচালক মো. আশাদুল ইসলাম উপস্থাপনায় বলেন, স্বাস্থ্য-ব্যয় বাড়ছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক স্বাস্থ্য-ব্যয় এখন ২৭ মার্কিন ডলার (দুই হাজার ১৬০ টাকা)। ২০০৭ সালে ছিল ১৬ মার্কিন ডলার (এক হাজার ২৮০ টাকা)। তিনি বলেন, মাথাপিছু স্বাস্থ্য-ব্যয় বাড়লেও তা প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে কম, যা পাকিস্তানে ৩০, নেপালে ৩৩, ভারতে ৫৯ ও শ্রীলঙ্কায় ৯৭ মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) হেলথ ইকোনোমিকস অ্যান্ড ফিনান্সিং রিসার্চ দলের প্রধান জাহাঙ্গীর এ এম খান বলেন, স্বাস্থ্য-ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ব্যক্তি নিজে বহন করে। ২৬ শতাংশ ব্যয় বহন করে সরকার। বাকি ব্যয়ের ১০ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও ব্যবসায়িক বিমা কোম্পানি বহন করে। তিনি বলেন, চিকিত্সা-ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা রবার্ট ইয়েটস বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বেশি হবে, না কম হবে, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি বলেন, যেসব দেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে অগ্রসর হয়েছে বা কিছু সাফল্য অর্জন করেছে তা মূলত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ফলে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শহর এলাকায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তি উদ্যোগ দেখা যায়। ব্যক্তি উদ্যোগ গ্রাম এলাকায়ও থাকা দরকার। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’
বিভিন্ন অধিবেশনে সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের হার কমছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটের ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল স্বাস্থ্য খাতে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল বাজেটের ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান, আইসিডিডিআরবির গবেষক তানভীর হুদা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার উপপ্রধান মোহাম্মদ খায়রুল হাসান।
সূত্র - প্রথম আলো

