অবৈধ উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি প্রায় ১০ কোটি টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। এ মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী থাকাকালে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা গোপনে এবং দেশের বিদ্যমান আইন না মেনে বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লয়েডস টিএসবি অফশোর প্রাইভেট ব্যাংকিংয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ নামে ‘ফিক্সড টার্ম ডিপোজিট’ নামের হিসাবে আট লাখ চার হাজার ১৪২ দশমিক ১৩ ব্রিটিশ পাউন্ড জমা করেন। ১১৮ দশমিক ৬৩ টাকা হারে ওই জমা করা ব্রিটিশ পাউন্ডের বাংলাদেশি মূল্যমান নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা। ব্যাংকের বার্ষিক বিবরণীতে বর্তমানে ওই হিসাবটিকে ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত দেখানো হয়েছে। এইভাবে বিদেশে জমা করা অর্থের বা হিসাবের বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পদ বিবরণী বা তাঁর আয়কর বিবরণী নথির কোথাও উল্লেখ করেননি। আয়কর নথির এই হিসাব গত বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আমলে নেওয়া হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খোলার বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ বা তাঁর স্ত্রী বিলকিস কেউই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি।
২০০৮ সালে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে তত্কালীন দুদক কর্তৃপক্ষ। সেটির অভিযোগপত্র গত বছরের ২৪ মার্চ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

