সার্জারির মাধ্যমে ডেনমার্কের নাগরিক ৩৬ বছর বয়সী ডেনিস আবোর একটি হাত আগেই কেটে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আতশবাজি পোড়ানোর সময় পেশায় প্রোপার্টি ডেভলপার দুর্ঘটনায় বাম হাতটি হারিয়েছিলেন প্রায় এক দশক আগে। পূর্বের হাতটির স্থানে এবার লাগানো হয়েছে বায়োনিক হাত। কৃত্রিম এ হাতটিকে তিনি ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। সূক্ষ্ম সার্জারির মাধ্যমে ইতালির একটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডেনিসের ওপরের বাহুর সঙ্গে বায়োনিক হাতটি জোড়া লাগিয়েছেন। তার ওপরের বাহুর স্নায়ুসমূহের সঙ্গে সংযোজিত করা হয়েছে কৃত্রিম হাতটি। ল্যাবরেটরিতে নতুন জোড়া লাগানো বায়োনিক হাতটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হচ্ছে, যান্ত্রিক এ হাতটি দিয়ে ডেনিস যে কোন বস্তুর আকার, গঠন এবং সেটি কতোটা দৃঢ় তা প্রায় নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারছেন। এমনকি চোখ বাঁধা অবস্থাতেও স্পর্শ করে বা চাপ দিয়ে কোন বস্তু উপলব্ধি করতে কোন অসুবিধাই হচ্ছে না ডেনিসের। সায়েন্স ট্র্যান্সলেশনাল মেডিসিন জার্নালে পূর্ণ গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালিত করে। ওই দলে ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির রোবট বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। প্রোসথেটিক কোন ডিভাইসের মাধ্যমে স্পর্শ করার পররই অনুভব করতে পারার এ ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রথম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে হাত উদ্ভাবনই শুধু নয়, মস্তিষ্কে স্পর্শের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি পাঠানোর জন্য যে ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়েছে, তা নতুন এক মাইলফলক সূচিত করেছে। অধ্যাপক সিলভেস্ত্রো মিসেরা ও তার দলের সফল এ গবেষণা নতুন পথের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে। তারা কৃত্রিম হাতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সেন্সর সংযোজন করেন। এ সেন্সরগুলো স্পর্শের নানা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। ইতালির রাজধানী রোমে পরিচালিত এ সার্জারিতে ডেনিসের বাম হাতের ওপরের বাহুর স্নায়ুসমূহের মধ্যে ৪টি ইলেক্ট্রোড স্থাপন করা হয়। ইলেক্ট্রোডগুলোকে বায়োনিক হাতটির আঙুলে স্থাপিত বেশ কয়েকটি সেন্সরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে, স্পর্শ ও চাপের যে কোন অনুভূতি সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। সার্জারির প্রথম পর্যায়ে এক মাস ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন টেস্ট করাতে হয়েছিল ডেনিসকে। ইলেক্ট্রোডগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা এবং এগুলো বায়োনিক হাতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। ডেনিস বলছিলেন, সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি আমি লক্ষ করলাম সেটি ছিল কোন বস্তু ধরে এবং না দেখেই আমি সেটি অনুভব করতে পারছিলাম। অন্ধকারেও হাত ব্যবহার করতে পারছিলাম আমি। অবিশ্বাস্যভাবেই বস্তুগুলো শক্ত বা নরম, চারকোণা নাকি গোলাকার তা অনুভব করতে পারছিলাম। কৃত্রিম হাত নিয়ে নতুন এ গবেষণা আশার আলো সঞ্চার করছে। তবে, বায়োনিক হাত নিয়ে আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। পরবর্তীতে আরও সহজ প্রক্রিয়ায় ও কম খরচে কিভাবে বায়োনিক হাত তৈরি করা যায়, তা নিয়ে চলবে গবেষণা।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

