ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়া। দু’টিই আলাদা রোগ। কিন্তু বাংলাদেশে একই রকম উপসর্গ হওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে শিশু ব্রংকিওলাইটিস রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয় নিউমোনিয়া রোগের। ফলে আক্রান্ত শিশুরা সঠিক চিকিৎসা পায় না। এ কারণে প্রতি বছর ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে অসংখ্য শিশু। বেঁচে থাকা শিশুরা হারাচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিষয়টির কথা স্বীকার করে বলেন, উপসর্গ জটিলতার কারণে ব্রংকিওলাইটিস আক্রান্ত শিশুদেরকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। নিউমোনিয়া-ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত রোগ হলেও ব্রংকিওলাইটিস ভাইরাস জনিত সমস্যা। স্বাভাবিকভাবেই নিউমোনিয়ার ওষুধে কাজ করার কথা নয়। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পরিচালক প্রফেসর ডা. রাশিদুল হাসান বলেন, এ জন্য দায়ী ‘রোগ বিভ্রাট’। সঠিকভাবে রোগ ধরতে না পারার কারণে এটি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই রোগের একই চিকিৎসা দেয়ায় নিউমোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেশি বলে মনে হচ্ছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি হিসাবেও নিউমোনিয়ার হার দেখায় বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাবিশ্বের প্রায় ১৫ কোটি শিশু প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ শিশুই দক্ষিণ এশিয়ার। এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ লাখ শিশুর জন্য হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল বিশ্বে পাঁচ বছরের কম-বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। প্রতি পাঁচজনে একজন এবং প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ শিশু প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বরণ করে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি এবং এই হিসাবে প্রতি ৭ সেকেন্ডে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটছে, যাদের শতকরা ৯০-৯৫ ভাগই দক্ষিণ এশিয়ার। কিন্তু ব্রংকিওলাইটিস নিয়ে কোন তথ্য নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. চৌধুরী আলী কাওসার বলেন, সাধারণত দুই বছরের নিচের শিশুরা ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়ার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই। এ কারণেই ভুলটি হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলেন, ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই আক্রান্ত শিশুর কাশি হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাস নেয়ার সময় বুকের পাঁজরের হাড় সঙ্কুচিত হয় এবং সঙ্গে জ্বরও থাকে। শিশুদের অতি অপুষ্টিও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম অন্তরায়। ডা. আলী কাওসার বলেন, সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ও ৩ কোটি ৬ লাখ শিশু যথাক্রমে অতি অপুষ্টি ও অপুষ্টির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে থাকে। প্রফেসর ডা. রাশিদুল হাসান বলেন, ব্রংকিওলাইটিস নিউমোনিয়ার মতো অতটা প্রাণঘাতী না হলেও ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার শিশুদের ওষুধ প্রতিরোধী করে তুলছে।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

