সরকারি বিধান মানছে না মানিকগঞ্জের বেশিরভাগ ক্লিনিক-হাসপাতালগুলো। বিধি লংঘন করে ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আইন না মেনে ক্লিনিক পরিচালিত হওয়ায় সঠিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।
মানিকগঞ্জে দিন দিন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে একের পর এক ক্লিনিক হাসপাতাল।
এ সব ক্লিনিক হাসপাতালগুলো সরকারি আইন না মেনে চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট ব্যবসা।
ক্লিনিক হাসপাতালের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও এগুলোতে বাড়ছে না সেবার মান।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ১৪ টি বেসরকারি হাসপাতাল, ২০ টি ক্লিনিক, ৪৪ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৬ টি ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে। ১০ বেডের একটি ক্লিনিক হাসপাতালের জন্য ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন নার্স, ৩ জন করে আয়া, ওয়ার্ড বয়, ওটি বয়, সুইপার পদে স্থায়ী লোক থাকতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি কোনো বিধানই ক্লিনিক হাসপাতালগুলো মানছে না। দু চার জন ডাক্তার ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে রোগী দেখছে। এসব ক্লিনিকে যাওয়া মাত্রই রোগীদের দেওয়া হচ্ছে অযাচিত পরীক্ষা নিরীক্ষা।
এদিকে অনেক ক্লিনিকে মাঝে মধ্যেই ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগ থাকলেও টনক নড়ছে না উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের। বিধি মোতবেক ক্লিনিকগুলোতে পরীক্ষা নিরীক্ষার দর সম্বলিত একটি তালিকা সাধারণের সম্মুখে টানানোর নিয়ম থাকলেও কোনো ক্লিনিকগুলোতে তা টানানো হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যের চাইতেও অতিরিক্ত মূল্য নেয়া হচ্ছে।
ক্লিনিক হাসপাতালগুলোতে নির্দিষ্ট স্টাফ থাকার পাশাপাশি যে জায়গা ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে সেগুলোও নেই। এত অনিয়মের পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই সব ক্লিনিক হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে নিচ্ছেনা কোনো ব্যবস্থা।
এসব ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা দৌলতপুরের মফিজুল ইসলাম, সাটুরিয়ার রোকেয়া বেগম, ঘিওরের আব্দুস সালামসহ বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান অত্যন্ত খারাপ। ক্লিনিকে আসলেই দেওয়া হয় শুধু পরীক্ষা। প্রয়োজন না থাকলেও তারা ব্যবসায়িক কারণে তারা অতিরিক্ত পরিক্ষা করাতে দেয়।
খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের প্রভাষক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, জেলায় অনেক ক্লিনিক হাসপাতাল থাকলেও এগুলো সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছেনা। জেলায় স্বাস্থ্য সেবার মান অত্যন্ত নিম্ন মানের। মালিকদের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির কারণে মানুষ প্রকৃত সেবা পাচ্ছে না।
বিশিষ্ট আইনজীবী নুরতাজ আলম বাহার বলেন, ক্লিনিক মালিকরা স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করে তাদের মনিটরিং বন্ধ রাখে। যে কারণে তাদের কাউকে আইনের আওতায় দেখা যায় না।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো. শাহ আলম সেই গতানুগতিক বক্তব্যই দিয়েছেন। অনিয়ম পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - risingbd.com

