সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্বাভাবিক প্রসব এবং মাতৃত্বজনিত অন্যান্য জটিলতা নিরসনে বেশি তত্পর। তবে বেসরকারি হাসপাতাল স্বাভাবিক প্রসব বা অন্যান্য জটিলতা নিরসনের চেয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর বিষয়ে বেশি মনোযোগী। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে এভাবে প্রসব করানোর সংখ্যা বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় দ্বিগুণ।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সেন্টার ফর ইক্যুইটি অ্যান্ড হেলথ সিস্টেম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। জরুরি মাতৃ ও শিশুসেবা নিয়ে দেশের ২৪ জেলায় সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিচালিত ২০১২ সালে করা এক গবেষণায় অস্ত্রোপচারের এ ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ওই সব জেলায় যেসব স্বাস্থ্য অবকাঠামো আছে সেখানকার জনবল, গুণগত সেবা দেওয়া, যন্ত্রপাতি কী কী আছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি নিড অ্যাসেসমেন্ট স্টাডির সংক্ষিপ্তসার বা পলিসি ব্রিফ সম্পর্কে জানানোর উদ্দেশ্যে আজ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আইসিডিডিআরবির গবেষণাটি কানাডা সরকার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ এমএনএইচআই কার্যক্রমের আওতায় করা হয়েছে। কার্যক্রমটি স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালীকরণের কাজ করছে।
আইসিডিডিআরবির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা এবং পলিসি ব্রিফ তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী মাহবুব ইলাহী চৌধুরী, সহকারী বিজ্ঞানী শামীমা আখতার, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ লুম্বিনী রায়, মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার বিশ্বাস প্রমুখ গবেষণায় উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ৯০ শতাংশেরই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব বা সি-সেকশন আছে। তবে এদের এক-তৃতীয়াংশেরই রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যবস্থা নেই। অথচ অস্ত্রোপচারের জটিলতা মোকাবিলার জন্য এটি থাকা আবশ্যক।
গবেষণার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০১২ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন গবেষকেরা। এর আগের তিন মাসের বিভিন্ন তথ্য গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব ইলাহী চৌধুরী অস্ত্রোপচার সম্পর্কে জানান, ২৪টি জেলায় পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, তিন মাসে অস্ত্রোপচারের ৯ শতাংশই করা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে ৩ শতাংশ।
মাহবুব ইলাহী চৌধুরী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে যেসব অস্ত্রোপচার হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কি না, তা তদারকি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আসলেই একজন নারীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন আছে কি না, তা মাপার জন্য ‘পারটোগ্রাফ’ পদ্ধতিকে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের জন্যই বাধ্যতামূলক করতে হবে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি হাসপাতালের অবদান একেবারে কম নয়। তাই এসব হাসপাতালের নীতিমালা যুগোপযোগী করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলা হাসপাতালে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ নার্সের পদ শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশই প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ এবং অবেদনকারীর পদ খালি। অস্ত্রোপচারকারী ও অবেদনকারীর একসঙ্গে কাজ করতে হয়। একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজন কাজ করতে পারেন না। কিন্তু ৭০ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই জোড়া নেই। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ, নিরাপদ পানির উত্সসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার চিত্রও সন্তোষজনক নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ ব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়ার জন্য গবেষণার সংক্ষিপ্তসার বা পলিসি ব্রিফ সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

