ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা হাসিনা আক্তারের (৬০) স্বামী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্বামীকে নিয়ে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন তিনি। সকাল নয়টা থেকে তিন ঘণ্টা বসে থেকেও চিকিৎসকের দেখা পাননি। হাসিনার মতো বক্সমাহমুদ এলাকা থেকে আসা ডালিয়া আক্তারও (৩০) তাঁর অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় তিন ঘণ্টা বসেছিলেন। তিনিও এই সময়ের মধ্যে সন্তানকে কোনো চিকিৎসক দেখাতে পারেননি।
২৪ মে বেলা ১২টার দিকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এভাবে প্রায় শতাধিক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রোগীরা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে কয়জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, তাঁরাও ঠিক সময়ে হাসপাতালে আসেন না বলে রোগীদের অভিযোগ।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক। এ ছাড়া উপজেলার দুটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং দুটি পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের প্রত্যেকটিকে একজন করে মোট চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও পদগুলো শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় মোট চিকিৎসকের ২৫টি পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র পাঁচজন কর্মরত রয়েছেন। এতে উপজেলার রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতালে আসা বেশ কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, কর্মরত পাঁচজন চিকিৎসকের মধ্যে চারজন ২৫ কিলোমিটার দূরে ফেনী শহরে অবস্থান করেন। তাঁরা বেলা ১১টায় হাসপাতালে এসে দুপুর একটায় চলে যান।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), চক্ষু, অর্থোপেডিক, হূদেরাগ এবং নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, অবেদনবিদ, দন্ত চিকিৎসক ও মেডিসিন কলসালটেন্ট এবং সাতজন চিকিৎসা কর্মকর্তার (এমও) পদ শূন্য।
এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণীর ৫১ জন কর্মচারীর মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ১০টি পদ শূন্য।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা নুরুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে জানান, চিকিৎসক ও কর্মচারী স্বল্পতার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি কয়েকজন চিকিৎসকের হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকদের সকাল ১০টার মধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

