জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেছেন, তামাকবিরোধী জনসচেতনতা ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাই পারবে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে। তামাকের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ধূমপানবিরোধী সংগঠন আধূনিক এবং বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আয়োজিত ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০১৪’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
তামাকবিরোধী আন্দোলনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এম আর খান বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে ধূমপান ও মাদকের কুফল সম্পর্কিত বিষয় সংযুক্ত করতে হবে।
জাতীয় তামাক ও মাদকবিরোধী জোটের সভাপতি আলী নিয়ামত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমজনতার মোট জনসংখ্যার ৪৭ ভাগই ধূমপান ও তামাক সেবনে অভ্যস্ত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর ৬০ হাজার মানুষ তামাক সেবনে মারা যায়। সাত লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। তামাক সেবনের কারণে ৫০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে প্রতিবছর কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়ে। এতে বাড়ছে দারিদ্র্য।
সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনের সমালোচনা করে আলী নিয়ামত বলেন, “সরকারি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, সচিবদের কপটতা ও ভন্ডামির কারণে আজও তামাক সেবন কমেনি বরং তা সময়ের যাত্রায় বেড়েই চলছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. এম মোস্তফা জামান বলেন, “তামাকবিরোধী আন্দোলনে জাতিসংঘের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো তামাকের ওপর কর বাড়ানো। বাংলাদেশের গরিবশ্রেণীর মানুষ দাম কম বলে বিড়ির প্রতি আসক্ত। তাই বিড়ি ও সিগারেটের করহার সমান করতে হবে।”
তামকজাত দ্রব্যের ওপর প্রতিবছরই কর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ব্যাপারে সরকার শক্ত ভূমিকা না নিলে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বাড়ানো সম্ভব নয়।
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কানিজ মাওলা বলেন, “সরকারের সহযোগিতার অভাবে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তামাক ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ হলো তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বাড়ানো।”
আধূনিকের নির্বাহী সচিব এম এ জব্বার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, “তামাকে চার হাজারের বেশি ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ২৫০টি স্বাস্থের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ৫০টির বেশি পদার্থ রয়েছে, যা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। আর যারা তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত, তারা ‘গ্রিন টোব্যাকো’ নামের এক ধরনের অসুখে আক্রান্ত হয়।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবির চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন শ্রীলঙ্কাকার হাইকমিশনার সারাত কে উরাগোদা, আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. শামসুল আলম, টোব্যাকো নিউজের সম্পাদক এ আই ইসলাম প্রমূখ।
সূত্র - natunbarta.com

