ছাত্রীদের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমানাপ্রাচীর দিয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আলাদা করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন করে গতকাল রোববারও মহাসড়কে অবরোধ ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে দাবি আদায়ে দিনভর কর্মবিরতি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চতুর্থ শ্রেণীর একজন কর্মচারী ছুরিকাহতের ঘটনায় কর্মবিরতি পালন করেছেন হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ধর্মঘটের মুখে সাময়িকভাবে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল গতকাল জরুরি বৈঠক করেছে। অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় বিকেলে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বগুড়া শাখার নেতারা। বৈঠকে সব পক্ষই কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীনিবাসের গণকক্ষ থেকে ছয়টি মুঠোফোন, একটি ট্যাব এবং নগদ টাকাপয়সা চুরির ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীরা ২১ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। এদিকে শনিবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে দেলোয়ার হোসেন নামে হাসপাতালের এক কর্মচারী বহিরাগতদের হামলায় ছুরিকাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়ন সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মিঠুন বাহাদুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাঁদের সঙ্গে থাকব। তবে রোগীরা যাতে দুর্ভোগে না পড়েন, সেদিক বিবেচনা করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের একটি দল সেবাদান অব্যাহত রাখবে।’
কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, একডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে ছাত্রীনিবাসের সীমানাপ্রাচীরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

