চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসসংলগ্ন পাহাড় কেটে সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে ওই এলাকায় অন্তত ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে৷ এগুলোর জন্য গণপূর্ত বিভাগ কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি৷
কর্মচারী সমিতির নেতারা টাকার বিনিময়ে এসব ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘর তোলার কাজ চলছে। সূত্র জানায়, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সেমি-পাকা ঘরের ভিত্তি ও চার েদয়াল তুলে ফেলা হয়। এখন দুটি ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। ঘর দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মনোয়ারা বেগম ও ওয়ার্ড মাস্টার কার্যালয়ের কর্মচারী মো. সাহাবুদ্দিনের।
ছাত্রাবাসের পেছনের পাহাড় কেটে ঘর দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলোতে এখন কেবল ছাউনি দেওয়া বাকি৷
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের সমিতি এই ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। সেখানে অনেক মাটি কাটতে হয়েছে। কার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়, আমি জানি না। এগুলো সমিতির নেতারা জানেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়াছিবাগানে অবস্থিত কলেজ ও হাসপাতালের কর্মচারীদের পাঁচটি ভবন গত বছর পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সেখানে বসবাসকারীদের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশের পর মেডিকেল ক্যাম্পাসের খালি জায়গা এবং পাহাড়ে পাকা ও সেমি-পাকা ঘর নির্মাণের হিড়িক পড়ে।
ওয়ার্ডমাস্টার কার্যালয়ের কর্মচারী মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ঘর ছেড়ে দিতে বলেছে। তাই সমিতির নেতাদের মাধ্যমে এখানে ঘর নির্মাণ করছি। এর আগে অনেকে ঘর নির্মাণ করেছেন। এ জন্য কোনো পরিচালক স্যারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’ পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, পাহাড় সেভাবে কাটা হয়নি। এমনিতে পাহাড়ের কাছ ঘেঁষে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির নেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কর্মচারীদের জন্য অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে৷ সমিতির সভাপতি রত্তন আলী ঘর নির্মাণের পেছনে মূল ব্যক্তি৷
চতুর্থ শ্রেিণর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. রত্তন আলী বলেন, ‘মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আপাতত তাঁদের কাঁচা ঘর তুলে থাকতে বলেছি। বহুতল ভবন উঠলে আবার চলে যাবে। এখন পর্যন্ত সাত-আটটি ঘর উঠেছে। বিষয়টা গণপূর্ত থেকে শুরু করে সবাই জানে।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা ঘর নির্মাণ করছেন, তাঁদের কাছ থেকে আমরা সামান্য ফি নিচ্ছি৷’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শহীদুল গনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে কেউ ঘর তোলার জন্য আবেদন করেননি। অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ জায়গার মালিক গণপূর্ত বিভাগ। আপনি অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।’
কলেজ অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান বলেন, ‘তাঁরা কীভাবে ঘর তুলছেন, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি।’
সূত্র - প্রথম আলো

