ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এক ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গতকাল শনিবার সকালে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
রোগীদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য হলেও আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে নির্বাচনী শোভাযাত্রায় এতগুলো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শোভাযাত্রাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, শোভাযাত্রাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে সকাল সোয়া নয়টায় শুরু হয়ে আলীপুর কবি জসীমউদ্দীন সড়ক ও মুজিব সড়ক দিয়ে টেপাখোলা লেকপাড় পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে জনতা ব্যাংক ও আলীপুর মোড় এবং রাজবাড়ী রাস্তার মোড় হয়ে ফরিদপুর বাইপাস সড়ক ঘুরে হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। সোয়া এক ঘণ্টা এ শোভাযাত্রা চলে।
সূত্র আরও জানায়, একসঙ্গে ৫৫টি অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন এবং ভেঁপু বাজিয়ে এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ও পেছনের কাচে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন ওরফে বাবরের ছবি ও আনারস প্রতীকসংবলিত পোস্টার সাঁটানো ছিল। শোভাযাত্রা চলাকালে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে ‘আনারস আনারস’, ‘জিতেই যাবেন বাবর ভাই’ এ রকম নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা অ্যাম্বুলেন্স চালক-শ্রমিক সমিতির সভাপতি কালাম মোল্লা বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স চালক-শ্রমিক ও মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। আমরা আমাদের আবেগ প্রকাশ করার জন্যই এ শোভাযাত্রার উদ্যোগ নিই।’
এ ব্যাপারে খন্দকার মোহতেশাম হোসেনের প্রধান নির্বাচনী প্রতিনিধি মোকাররম মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স শোভাযাত্রার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী আচরণবিধি ২০১৩-এর ১০(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘মিছিল, যানবাহনসহকারে মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বাহির করা যাইবে না বা কোনোরূপ শো-ডাউন করা যাইবে না।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ জাতীয় মহড়া নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আমি আজ (রোববার) বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের সমেঞ্চলন কক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে মনিটরিং সভায় আলোচনা করব।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন ঠেকাতে কাজ করছেন জেলার নির্বাহী হাকিম। কাউকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না।
সূত্র - প্রথম আলো

