ঢাকার সাভার পৌরসভার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত সোমবার দিবাগত রাতে ভুল চিকিৎসায় অজুফা বেগম (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ৷
সাভার মডেল থানার পুলিশ ও অজুফার পরিবার জানায়, পৌর এলাকার ইমান্দিপুরের মকবুল হোসেনের স্ত্রী অজুফা পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন৷ ইসমাইল হোসেন নামের এক লোকের সহায়তায় ৫ মে তাঁকে পৌরসভার তালবাগ মহল্লার সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ ওই হাসপাতালের পরিচালক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ দাবিদার আবু তাহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অজুফার পিত্তথলিতে পাথর ও অ্যাপেনডিসাইটিস হয়েছে৷ এ জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরামর্শ দেন তিনি৷ সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবু তাহের অজুফার অস্ত্রোপচার করেন৷ রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবু তাহের ও হাসপাতালের অপর পরিচালক অবেদনবিদ কামরুজ্জামান অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের হন৷ এ সময় স্বজনেরা অজুফার অবস্থা জানতে চাইলে দুই চিকিৎসক জানান, সুস্থ আছেন৷ কিছু সময় পর অজুফার ছোট ছেলে নবী হোসেন অস্ত্রোপচার কক্ষে গিয়ে তাঁর মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান৷ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনেরা দালাল ইসমাইলকে মারধর করে হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান৷ খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে৷
অজুফার বড় ছেলে আশরাফ বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর আবু তাহের নিজেকে সার্জাির বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন৷ পরে জানতে পারেন তিনি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন৷ আবু তাহেরের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর মা মারা গেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন৷
আশরাফ বলেন, ‘আমার মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি৷’ কিন্তু কত টাকায় আপস করেছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলেননি৷ ওই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক আবু তাহের ও কামরুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি৷ মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি৷
সাভার মডেল থানার এসআই শিবশঙ্কর বণিক বলেন, হাসপাতালের পরিচালক আবু তাহের অজুফার দেহে অস্ত্রোপচার করেন৷ কিন্তু ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়ে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি৷
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দেওয়ান বলেন, ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শাহানাজ সিগমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে৷ সাত দিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে৷ প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
সূত্র - প্রথম আলো

