home top banner

খবর

শ্রমিকরাই ছড়াচ্ছেন যক্ষ্মা জীবাণু
২১ মে, ১৪
Tagged In:  tuberculosis   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   18

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শ্রমিকরা। বিশেষ করে ‘মাইগ্রেট’ শ্রমিকরা এখন জীবাণু বহনে ভূমিকা রাখছেন বেশি। তারা যখন কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়ি বা অন্য কোথাও যাচ্ছেন, সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন যক্ষ্মার জীবাণু। চিহ্নিত হওয়ার আগে এভাবেই তারা ছড়াচ্ছেন রোগটি। আক্রান্ত হচ্ছেন অন্য কেউ। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্তৃপক্ষ এদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা বলছেন, সমপ্রতি বিষয়টি ধরা পড়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. আশিক হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটা ঠিক, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে যক্ষ্মার জীবাণু বেশি। আর তারা যখন শহরের বাইরে যাচ্ছেন, তখন সেটি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এতে তার পরিবার কিংবা প্রতিবেশীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে অন্যতম বাধা। তাদের লক্ষ্য রেখে আমরা একটি ‘ওয়ার্ক প্লান’ তৈরি করছি। শিগগিরই কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এ ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, মোটা দাগে মাইগ্রেট শ্রমিকদের বিষয়টি এখন আলোচনায় আসছে। বিভিন্ন স্থানে যক্ষ্মার জীবাণুর বাহক হিসেবে অনুসন্ধানে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ জন্য কর্মসূচিতে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি নজর বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। সমপ্রতি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি দেখতে গেলে স্থানীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, সেখানে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই মাইগ্রেট জনগোষ্ঠী। উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দির গাড়িচালক আবুল কাশেম (৫৫) কিংবা আলীপুরার আফজাল চৌধুরী (৪০) কেউই বাড়ি বসে যক্ষ্মার জীবাণুতে আক্রান্ত হননি। তাদের মতো অনেকই ঢাকা থেকে নিয়ে গেছেন এ জীবাণু। এ এলাকার আক্রান্ত অনেকে কাজ করেন ঢাকার গার্মেন্টে বা শিল্পকারখানায়। আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বাড়িতে। আফজাল চৌধুরী বলেন, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরা বাড়ি আসার পর বা এখানকার স্থানীয় শিল্পকারখানায় কাজে যোগ দেয়ার পর রোগী হিসেবে ধরা পড়েছেন। তাদের মাধ্যমে রোগ ছড়িয়ে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। 

মেঘনা নদী অববাহিকার চর উপজেলা গজারিয়ায় সরকার ও ব্র্যাক যৌথভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে কাজ করছে। ওষুধ সরবরাহ, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বাস্থ্যসেবিকা দিয়ে সেবাকার্যক্রম চালাচ্ছে ব্র্যাক আর ল্যাব সাপোর্ট দিচ্ছে সরকার। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডটস কর্মসূচির আওতায় এ সেবা দেয় সরকার। ব্র্যাকের কর্মীরা স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসচেতন করতে স্বাস্থ্য ফোরাম-এর মাধ্যমে কাজ করেন। তারা প্রসূতিসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকা, সেনিটেশন, পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে চরের মানুষকে সচেতন করেন। বিশেষ করে যক্ষ্মা নিয়ে ফোরামের প্রতি বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একজন মীরা রানী। তাকে প্রতি মাসে একটি ফোরামে ৩টি করে ৬০টি বৈঠকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে নিয়মিত কথা বলতে হয়। ‘কাউকে সচেতন করতে পারলে ভাল লাগে। যখন দেখি, কেউ আমার ছড়িয়ে দেয়া ‘মেসেজ’ অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নিজেই বলতে পারছে কোন রোগের জন্য তাকে কি করতে হবে, তখন অনুভূতিটা হয় অন্যরকম-’ বললেন তিনি। প্রতি মাসে এভাবে ফোরাম করার কারণে মানুষ সচেতন হচ্ছে। যক্ষ্মা সম্পর্কে জানতে পারছে। কাশি-জ্বর-বুকে ব্যথা হলে কফ পরীক্ষা করতে আসছেন টডস সেন্টারে। অথচ আগে তাদের খুঁজে আমাদের যেতে হতো ঘরে ঘরে। একে কেউ আমলে নিতো না। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা গত ৩ বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে বলছেন, এ উপজেলায় দিন দিন যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১১ সালে ১৮১ রোগীর সন্ধান পেলেও গত বছরে পাওয়া গেছে ২৬৭ জন। এ প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচির আওতা বাড়ায় সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণের হারও বেড়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। শ্রমিকদের মধ্যেই আক্রান্তের প্রবণতা বেশি। তিনি বলেন, বাড়ছে এটা ঠিক, তবে আমরা আশাবাদী একসময় রোগীর সংখ্যা কমবে।

সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: টমেটো কমাবে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব
Previous Health News: সাভারে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')