বিশ্বের যক্ষ্মা রোগীর ৪০ শতাংশের বাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া এই অঞ্চলের জন্য নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে এই অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
যক্ষ্মা বিষয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচকেরা এ কথা বলেন। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনস্ট টিউবারকিউলিসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজেস এবং নাটাব (ন্যাশনাল এন্টি টিউবারকিউলিসিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিল্লি কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. খুরশিদ আলম হায়দার বলেন, দরিদ্র দেশগুলোতে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ দরিদ্র মানুষকে পকেট থেকে দিতে হয়। বিমা ব্যবস্থা থাকলে মানুষের সুবিধা হতো। তিনি জানান, এই সম্মেলনে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা (এমডিআর টিবি), শিশুদের যক্ষ্মা, মানবাধিকার, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধ, নৈতিকতা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় স্বাস্থ্য কার্ড চালু করার চিন্তাভাবনা করছে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি বলেন, যক্ষ্মার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। নাটাবের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরাও চার দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও নাটাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, দারিদ্র্যের সঙ্গে যক্ষ্মার সম্পর্ক আছে। দেশ থেকে অপুষ্টি, দারিদ্র্য দূর না হলে যক্ষ্মা নির্মূল করা যাবে না।
ইউএসএআইডির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির কর্মকর্তা এস হার্ডলি বলেন, যক্ষ্মা অনেক দেশের জন্যই জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশ যক্ষ্মা মোকাবিলায় শতভাগ এলাকাকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এনেছে, এটি একটি বড় সাফল্য।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক কাওসার আফসানা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সূত্র - প্রথম আলো

