রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কথিত কবিরাজদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আর তাঁদের কথার ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, আসর বসিয়ে হাতুড়ে কবিরাজেরা চটকদার কথায় পেটের ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, বাত, আমাশয়, ডায়াবেটিস, সর্দি-কাশি, অ্যাজমা, যৌন রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ের শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। গ্রাম এলাকার সহজ-সরল লোকজন তাঁদের মনভোলানো কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
সয়ার ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি চার মাস আগে তারাগঞ্জ হাটে এক কবিরাজের কাছ থেকে ১৯০ টাকা দিয়ে যৌন রোগের ওষুধ কেনেন। ওই ওষুধ সেবনের পর থেকেই শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি তারাগঞ্জ হাসপাতালে আট দিন ভর্তি থেকে সুস্থ হন।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আবু আসলাম জানান, নয় দিন আগে ইকরচালী বাজারে এক কবিরাজের কথায় ছয় টাকা দিয়ে পেটের ব্যথার বড়ি কেনেন। কিন্তু বড়ি খাওয়ার পরই তাঁর ডায়েরিয়া হয়।
ইকরচালী গ্রামের মোনা চৌধুরী বলেন, ‘হাতুড়ে কবিরাজের তেল মালিশ করে আমি পঙ্গু হয়েছি। আর কেউ যেন ভুল করেও হাতুড়ে কবিরাজের ওষুধ না কেনে।’
গত শুক্রবার তারাগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কবিরাজ আলফাজ উদ্দিন গানের আসর জমিয়ে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি বলেন, তাঁর ওষুধ খেলে কারও উপকার না হলেও ক্ষতি হয় না।
তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, এসব হাতুড়ে কবিরাজের চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহাজাহান বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
সূত্র - প্রথম আলো

