রাজধানীতে ‘হেলথ ভিশন বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর পর আসল বোতলে নকল ভ্যাকসিন ভরে বিক্রি করায় তুষার ইমরান (২১) নামের প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ১৫টি ভ্যাকসিনসহ তুষার ইমরানকে আটক করার পর তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সোমবার র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। র্যাব বলছে, ফেসবুক পেজে ভালো কথার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আসল টিকার বোতলে (অ্যাম্পুলে) বাইরে থেকে তরল ভরে হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন হিসেবে বিক্রি করে।
আদালত পরিচালনাকারী র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, হেলথ ভিশন বাংলাদেশের বাকি চার অংশীদার শুভ হানিফ (২৬), মো. মাসুম (২৮), এ্যানি (২৫) ও বাঁধনের (২০) বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, ফেসবুকে একটি পেইজ খুলে কয়েকজন তরুণ হেলথ ভিশন বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছিলেন। নিজেদের পেইজে তাঁরা স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতার কথা বললেও আসলে তাঁরা জন্ডিস-হেপাটাইটিস-বির নকল টিকা বিক্রি করেন। দণ্ড পাওয়া তুষার ওই প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় নির্বাহী বলে তাঁর পরিচয়পত্রে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া আছে পল্লবী এলাকার।
আটকের পর সাজাপ্রাপ্ত তুষার ইমরান।র্যাব জানায়, ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে এই তরুণেরা গুলশান-বনানীর বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় গিয়ে টিকা দিতে চুক্তিবদ্ধ হতো। টিকা দেওয়ার সময় তাঁরা নকল টিকা দিতো। আজ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের সফুরা টাওয়ারের ১২তলায় একটি প্রতিষ্ঠানে টিকা দিতে গেলে কয়েকটা টিকা দেওয়ার পরে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সন্দেহ হয়। টিকার অ্যাম্পুলের মুখগুলো সুপার গ্লু দিয়ে লাগানো দেখে একজন প্রথমে সন্দেহ করেন। পরে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন।
র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, তুষার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, চার দফায় হেপাটাইটিস-বির টিকা সম্পন্ন হয়। প্রতিবার ইনজেকশন প্রদানের জন্য হেলথ ভিশন ৮০০ টাকা করে দাম রাখে। ৬০০ টাকা টিকার ওষুধের দাম আর ২০০ টাকা ইনজেকশন দেওয়ার খরচ হিসেবে। কিন্তু তাঁরা প্রথম দফায় আসল টিকা কিনে সেগুলোর খালি বোতল সংগ্রহ করে রেখেছে। এরপরে সেগুলোতে তরল ভরে তাঁরা মানুষের শরীরে ইনজেকশন দেন। তবে নকল টিকার অ্যাম্পুলের ভেতরের তরলটি আসলে কী তা জানা যায়নি।
ভুয়া হারবাল প্রতিষ্ঠানে অভিযান
এদিকে আজ র্যাবের আরেক ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে র্যাব-৩-এর একটি দল রামপুরা এলাকায় ‘গ্রিন লাইফ হারবাল’ নামে কথিত একটি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নয় ধরনের অনুমোদনবিহীন যৌন উত্তেজক পদার্থ জব্দ করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক, বাড়ির মালিকসহ ১৩ জনকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে তাত্ক্ষণিকভাবে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর বাড়ির মালিকসহ বাকিদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে বাড়িভাড়া দেওয়ার জন্য বাড়ি মালিককে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সুত্র - প্রথম আলো

