গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের পানির একমাত্র মজুত ট্যাংকের ভেতরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে একটি মৃত কুকুর পাওয়া গেছে। ওই দিনই বিকেলে ট্যাংকটি পরিষ্কার করে তাতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হলেও হাসপাতালের রোগী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ তা পান করছেন না।
হাসপাতালের এক সেবিকা মোসাম্মদ বদরুন্নেছা বলেন, ছয়-সাত দিন ধরে হাসপাতালের পানি পচা-দুর্গন্ধযুক্ত। তখন থেকেই রোগীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পানি ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কর্তৃপক্ষ গত সোমবার থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অবশ্য এতে রোগীদের বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
টঙ্গী হাসপাতালে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে একমাত্র চিকিৎসক শরীফুন নাহার রোগী দেখছেন। হাসপাতালে ওই সময় আর কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি। এ কারণে রোগীরা তাঁর কক্ষের সামনে ভিড় করেছেন। ওই চিকিৎসকের টেবিলে ও জরুরি বিভাগের কক্ষে কেনা পানির বড় বোতল দেখা গেছে। হাসপাতালের রোগী ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে থেকে বোতল ও জগ-কলস ভরে পানি নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে দেখা গেছে। সবার একই কথা—কুকুর পচে থাকা ট্যাংকের পানি খেতে তাদের ভয় হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে জানা যায়, হাসপাতালের উত্তর-পশ্চিম পাশে পানির মজুত ট্যাংক রয়েছে। পাশের গভীর নলকূপ থেকে পানি তুলে ওই ট্যাংকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি হাসপাতাল ও হাসপাতাল চত্বরে তিনটি আবাসিক ভবনে সরবরাহ করা হয়। পানির মজুত ট্যাংকের ঢাকনা দীর্ঘদিন আগে ভেঙে যাওয়ার পর আর লাগানো হয়নি। কয়েক দিন আগে ওই স্থান দিয়ে একটি কুকুর ট্যাংকের ভেতরে পড়ে মরে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তল্লাশি চালালে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং ট্যাংক থেকে তুলে কুকুরটি ফেলে দেওয়া হয়। পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করে সন্ধ্যায় তাতে আবার গভীর নলকূপের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসক শরীফুন নাহার বলেন, ‘ট্যাংকে মৃত কুকুর পাওয়ার পর থেকে ওই পানি খেতে আমারও রুচিতে বাধছে। রোগীরাও খাচ্ছে না।’
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি টঙ্গীর পাঠানপাড়া এলাকার রাজমিস্ত্রি মোকলেছ মিয়া জানান, পানিতে গন্ধ পাওয়ার পর তিন-চার দিন আগে পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তাঁর স্বজনেরা বাইরে থেকে খাওয়ার জন্য দৈনিক ৯-১০ লিটার বোতলজাত পানি কিনে আনছেন। একই ধরনের কথা বলেন ফায়দাবাদের সিরাজ উদ্দিন, আবদুল্লাহপুরের মকবুল হোসেন, কুলসুম বেগমসহ কয়েকজন রোগী।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মাহবুবুর রহমান বলেন, পানির ট্যাংকের ঢাকনা যে আংশিক ভাঙা ছিল, সেটা জানা ছিল না। সেখান দিয়ে ট্যাংকের পানিতে কুকুর পড়ে পচে গেলে পানিতে গন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার একটি মোটর দিয়ে ওই ট্যাংকের ভেতর থেকে সব পানি তুলে তিনবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় এবং সন্ধ্যায় আবার পানি সরবরাহ করা হয়। এর পরও আগামী দু-দিন ওই পানি পান না করাই ভালো। তবে এখন গোসল, ধোয়া ও মোছার কাজে ওই পানি ব্যবহারে সমস্যা নেই। ট্যাংকে ভালো ঢাকনা দেওয়া হয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার সরকারি বন্ধের দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক কাজ করেছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

