বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সব লিফট অচল হয়ে পড়ে। ৪০০ কেভির জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের ১১ লিফটের একটিও কাজ করে না। গতকাল শনিবার ও গত শুক্রবার বিকেলে প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালে আসা অনেক রোগী।
গতকাল শনিবার বিকেল চারটা ১০ মিনিট থেকে পাঁচটা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা এক হাজার শয্যার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সময় হাসপাতালের ৪০০ কেভির জেনারেটর থেকে বাতি ও পাখার মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চললেও কোনো লিফট কাজ করেনি।
সরেজমিনে গতকাল বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, লিফট অচল থাকার কারণে অনেক রোগী কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মোজামেঞ্চল হোসেন (৪৫) লিফটের সামনে অপেক্ষা করতে করতে বমি করে ফেলেন। এ সময় স্বজনেরা তাঁকে ধরাধরি করে পাঁচতলায় নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে যান। প্রায় একই সময় হাসপাতালের পাঁচতলা নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডের কালীপদ সরকারকে (৭০) পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্ট্রেচারে করে সিঁড়ি বেয়ে নিচতলায় নামানো হয়।
গত শুক্রবারও বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগনির্ণয়ের জন্য প্রতিটি যন্ত্রের সঙ্গে আলাদা জেনারেটর রয়েছে। বাকি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও লিফটের জন্য আছে ৪০০ কেভির জেনারেটর। তবে বাকি যন্ত্রপাতি (বাতি, পাখা ইত্যাদি) চললেও কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফট কাজ করছে না। হাসপাতাল সংরক্ষণ, মেরামত এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি দেখভালের দায়িত্বে আছে রংপুর গণপূর্ত বিভাগ।
হাসপাতালের পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ৪০০ কেভি জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও লিফট না চলার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে।
রংপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বিকাশ বকশী বলেন, ৪০০ কেভির জেনারেটর দিয়ে লিফট চলার কথা। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি চলছে না। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

