চিকিৎসক-সংকটের কারণে খুলনার তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখানে চিকিৎসকের ১৫টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র পাঁচজন। বাকি পদগুলো শূন্য। চিকিৎসক-সংকটের কারণে রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক নাদিয়া খান দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে আছেন। ফলে নারী রোগীদের হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ জন রোগীকে সেবা দিতে হয়; যা একজন বা দুজন চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব নয়।
চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন তেরখাদা গ্রামের মনিরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে কোনো মাইয়ে ডাক্তার নেই, এক-দুই ডো বিটা ডাক্তার আছে, তা তারে দেহাতি গেলি রাত হয়ে যাবেনে। খামাকা সময় নষ্ট না করে খুলনে (খুলনা) যাচ্ছি।’
হাসপাতালের ভর্তি থাকা রোগী তেরখাদার নাচুনিয়া গ্রামের মো. রশিদ বলেন, ‘ডাক্তার তো সব সময় পাইনে। কোনো দিন একটার সময় আসে আবার কোনো দিন আসে না।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা আবদুল নাসের রয়েছেন। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদটি শূন্য। চিকিৎসা কর্মকর্তা দুজনের স্থলে আছেন একজন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, সার্জারি, অবেদনবিদ ও দন্ত চিকিৎসকের পদগুলো শূন্য। ছয়জন সহকারী সার্জনের মধ্যে রয়েছেন দুজন। তাঁদের মধ্যে মুসলিমা আক্তার ইয়াসমিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের ১১ মে থেকে প্রেষণে রয়েছেন। অপর চিকিৎসক জাকিয়া ফেরদৌস চলতি বছরের ২২ নভেম্বর থেকে দুই মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। গাইনি চিকিৎসক নাদিয়া খানম অসুস্থতার জন্য ২৬ অক্টোবর থেকে ছুটিতে রয়েছেন। চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এই হাসপাতালে হয় না। গত বছরর জুনে হাসপাতালটিকে ৩১ থেকে ৫০ শষ্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল নাসের বলেন, চিকিৎসক-সংকটের বিষয়ে তিনি বিভাগীয় পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

