ধর্ষণের শিকার নারীর বয়স নির্ধারণের পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোতে পুরুষ চিকিৎসক যাতে অংশ না নেন, তা তদারকি করতে বলেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
ধর্ষণের শিকার নারীর (বয়স) পরীক্ষায় আদালতের নির্দেশ অনুসারে নারী চিকিৎসক নিয়োগ না দেওয়ায় ২ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশ অনুসারে গতকাল একই বেঞ্চে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক হাজির হলে আদালত এ কথা বলেন। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অব্যাহতি দেন আদালত। আদালতে তাঁর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।
শুনানিতে শ ম রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুসারে নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে তা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনারা তদারকি করবেন। নারীর বয়স নির্ধারণে কোনো পুরুষ (চিকিৎসক) যেন অংশ না নেন।’
গত বছরের এপ্রিলে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ: নারীর জন্য এ কেমন ব্যবস্থা!’ শিরোনামে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি ১৬ এপ্রিল আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বি এম ইলিয়াস ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন। গত বছরের জুনে সব সরকারি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে নারী চিকিৎসক, নার্স ও এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এ আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতকে জানাতে বলা হয়। কিন্তু কোনো জবাব না আসায় ২ এপ্রিল আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলবের আদেশ দেন।
পরে বিশ্বজিৎ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের শিকার নারীর বয়স নির্ধারণের পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোতে পুরুষ চিকিৎসক যাতে অংশ না নেন, তা তদারকি করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

