দেশে ভুয়া ডাক্তারদের ধরতে একটি তদারকি দল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
দেশে প্রায়শই ভুয়া ডাক্তার বা হাসপাতালের খবর বের হয় পত্রিকায়। সেখানে প্রতারিত হচ্ছেন অসুখে ভোগা বিপদেপড়া মানুষজন।
মাসে তিনেক আগে ঝালকাঠির কবির হোসেন জানতে পারেন তার যকৃতে ক্যান্সার হয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রথমেই গিয়েছিলেন বরিশালে। তার স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান বরিশালে ডাক্তার তাদের ঢাকায় যেতে বলেন। ঢাকায় তাদের বড় হাসপাতালে ভর্তির নাম করে নিয়ে যান অন্য কোথাও। পুলিশ যেদিন সেটিকে বন্ধ করে দেয় সেদিনই প্রথম বুঝতে পারেন এটি একটি ভুয়া হাসপাতাল।
নাসিমা বেগম বলেন, “ডাক্তারের ভিজিট, ওষুধ আর হাসপাতালের সিট ভাড়া সহ সবমিলিয়ে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমার স্বামীর অবস্থায় কোনো পরিবর্তন নাই।”
গত সপ্তাহেই মহাখালীর ওই ভুয়া ক্যান্সার হাসপাতাল খোঁজ মিলেছে। এরপর হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব। সেই অভিযানে থাকা র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বিবিসিকে বলেন, "গত দু বছরে শতাধিক ভুয়া হাসপাতাল ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”
মূলত সরকারি হাসপাতালগুলোর আশপাশেই যেগুলো ব্যবসা করছিল।
ঢাকায় শেরেবাংলা নগর এলাকার সরকারি হাসপাতাল পাড়াতেই খোঁজ মিলেছে ৪০ টির মতো ভুয়া হাসপাতাল আর ডাক্তারের।
মি. পাশা বলেন, "বাংলাদেশে অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র সংক্রান্ত যে আইন সেটি খুবই দুর্বল হওয়ায় এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন।”
তিনি জানান, ওই আইন অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ জরিমানা মোটে ৫ হাজার। এছাড়া মালিকের সর্বোচ্চ সাজা ৬ মাস পর্যন্ত। অন্য সব আইনের আশ্রয় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত মহাখালির ঐ হাসপাতালটির মালিককে দুবছরের সাজা দিয়েছে।
এসব ভুয়া ডাক্তারদের ধরতে একটি তদারকি দল গঠন করা সহ বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলকে কোনো ধরনের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করছে সরকার।
ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ইকবাল আর্সেলান বলেন, “দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। সেই সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠছে এসব চিকিৎসা কেন্দ্র। ক্যান্সার, হাড়ের চিকিৎসা, আর পাইলস এর চিকিৎসায় সবচাইতে বেশি ভুয়া ডাক্তার আমরা খেয়াল করছি। তাদের কাছে গিয়ে রোগীদের এতটাই ক্ষতি হচ্ছে যে পরে আসল ডাক্তারের কাছে গেলে সেনিয়ে কিছু করতে পারছেন তারা।”
ঝুঁকির বিষয় না বুঝেই ভুয়া হাসপাতালে গিয়েছিলেন কবির হোসেন। তার স্ত্রী বলছিলেন, ঢাকায় নতুন করে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। কারণ ভুয়া হাসপাতালেই খরচ হয়ে গেছ জমানো টাকা। তাই ক্যান্সার নিয়েই ফিরে গেছেন ঝালকাঠিতে গ্রামের বাড়িতে।– বিবিসি।
সূত্র - natunbarta.com

