টাঙ্গাইলের সখীপুরে গতকাল শুক্রবার পল্লিচিকিৎসক কিশোর কুমারকে (৩০) মারধর করে তাঁর ওষুধের দোকান ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি হিন্দু বাড়ির খড়ের গাদা।
সখীপুরে আহত চিকিৎসক কিশোর কুমারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে কিশোর কুমার জানান, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা ও দোকানে ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের ক্যাশ থেকে লক্ষাধিক টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘মামলা করলে তোকে মেরে ফেলা হবে।’
এ ব্যাপারে কিশোর কুমারের ছোট ভাই কৃষ্ণ সরকার বাদী হয়ে জুয়েল রানা (৩২), বিপ্লব রুবেল (৩৬) ও আবদুর রাজ্জাককে (৩০) আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
বেড়বাড়ি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এদের নামে নারীদের উত্ত্যক্ত করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের বড়াইগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে রবিচন্দ্র নবদাম ও জ্যোতিন্দ্র চন্দ্র নবদামের বাড়ির দুটি খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে দুটি গাদার সব খড় পুড়ে যায়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার একটি মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় মন্দিরে মন্দিরে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীম আল রাজি উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, ত্রিশালে যেন আর কোনো সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি মন্দিরে মসজিদের মতো কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরা মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরের পাহারায় তিনজন করে গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদার থাকবেন।
সভায় বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
সূত্র - প্রথম আলো

