শুধু পাবনার বেড়ারই নয়, পাশের আরও চার উপজেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য ভিড় করেন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ফলে এখানে রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। ব্যস্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক আছেন মাত্র তিনজন। অথচ ৫০ শয্যার অনুমোদন পাওয়া এই হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসক থাকার কথা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে ভেঙে পড়েছে এর চিকিৎসাব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বেড়ার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় সাঁথিয়া ও সুজানগর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার রোগীরাও এখানে আসেন। এর ওপর বেড়ার রোগীদের চাপ তো আছেই।
সূত্রটি আরও জানায়, রোগীর চাপের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয় ২০০৬ সালে। এ জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয় ২০১১-তে। ওই বছরের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ৫০ শয্যার জনবল। আগের ৩১ শয্যার কথা বিবেচনা করলেও এখানে নয়জন চিকিৎসক থাকার কথা। অথচ আছেন মাত্র তিনজন। জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজ-কলমে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আটজন চিকিৎসক আছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে তিনজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে বাইরে ও একজন প্রেষণে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। এ ছাড়া শাম্মী নাসরীন নামের এক চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমানে শুধু আছেন অবনীমোহন বিশ্বাস, সরদার মো. মিলন মাহমুদ ও আরজিনা আফরিন। তাঁদের মধ্যে আবার অবনীমোহন দন্ত চিকিৎসক হওয়ায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন বাকি দুজন।
৩ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। লাইনে দাঁড়ানো সাঁথিয়ার বায়া গ্রামের হানিফ মিয়া (৪৫) বলেন, ‘অসুইখ্যা শরীল নিয়্যা এক ঘণ্টা দাঁড়ায় আছি। আর পারতাছি না।’
রোগী দেখার এক ফাঁকে চিকিৎসক মিলন মাহমুদ বলেন, ‘রাতের পালার কাজও আমাকেই করতে হয়। আর দেখছেনই তো, সারা দিন বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চাপও সামাল দিতে হয়।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যন্ত্রেরও বিশ্রাম আছে। আমাদের তাও নাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কার্তিক কুমার সাহা বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঁচ উপজেলার রোগীর চাপ সামাল দিতে হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে দুই শতাধিক আর অন্তর্বিভাগে ৫০ জনের মতো রোগী থাকেন।
সূত্র - প্রথম আলো

