উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশে হার্টের রোগীদের বিটিং পদ্ধতিতে হার্ট সচল রেখে রক্তনালীর ভেতরে চর্বি কেটে বের করে বাইপাস সার্জারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হার্ট রিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘বাইপাস সার্জারি উইথ আর্টিনারি ইন বিটিং হার্ট’ শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য জানানো হয়।
তারা জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর ডা. অসিত বরণে অধিকারি ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে এ পদ্ধতিতে সার্জারি শুরু করেন। এ পদ্ধতিতে বাইপাস সার্জারির ফলে দেশে আগামি ১০ বছরের মধ্যে একটি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। দেশে বর্তমানে ২০-২৫ জন বাইপাস সার্জারি করেন। আগামি ২-৩ বছরের মধ্যে আরো ২০-৩০ জন সার্জন বের হবে।
এ সার্জারির পর রোগী দুই/তিন দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় এবং সারাজীবন সুস্থ থাকবে বলেও জানান তারা।
সেমিনারে ডা. অসিত বরণ অধিকারি জানান, দেশে ৯০ দশকে হার্ট বাইপাস সার্জারি শুরু হয়। সীমাবদ্ধতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৪ সালে আবার আমি শুরু করি। আগে হার্ট বন্ধ করে সার্জারি করা হতো। সম্পূর্ণ হার্ট সচল রেখে এ সার্জারি বাইপাস সার্জারি জগতের নতুন দিগন্ত।
২০০৪ সাল থেকে প্রায় ১৩ শতাধিক রোগিকে এ পদ্ধতিতে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “উন্নত দেশে এ পদ্ধতিতে বাইপাস সার্জারি করানোর খরচ অনেক বেশি। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে এক লক্ষ থেকে কিছুটা কম ও বেসরকারি পর্যায়ে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় এ সার্জারি করা হয়। তবে আমাদের দেশে হাসপাতাল উন্নত না হলেও চিকিৎসা বিশ্ব মানের।”
অসিত বরণ বলেন, “সর্বনিন্ম ১৮ থেকে ৯৪ বছর বয়সের রোগিদের এ সার্জারি করা হয়। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সরকারি বেসরকারি প্রায় ১৮টি হাসপাতালে এ সার্জারি করা হয়। বাংলাদেশে জন্মগত শিশু হার্টের রোগির সংখ্যা প্রায় পাঁচ/ছয় লাখ। বয়স্ক রোগী তার দ্বিগুণ।”
বাইপাস সার্জারিতে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখ করে ডা: অসিত জানান, আমেরিকায় এ পদ্ধতিতে বাইপাস সার্জারিতে প্রায় দুই শতাংশ রোগী মারা যায়। বাংলাদেশে এ পদ্ধতিতে সার্জারি করাতে ভয়ের কারণে গড়ে ২-৩ শতাংশ রোগী মারা যায়। তবে এ পদ্ধতিতে সার্জারিতে কোনো প্রকার ভয়ের কারণ নেই বলে জানান তিনি।
হার্টের রোগীদের রোগ প্রতিরোধের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে ডা: অসিত বরণ বলেন, “হার্টের এ রোগদের বেশি বেশি হাঁটা, খাদ্যাভাস পরিবর্তন, ডায়বেটিক ও টেনশন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ, শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। তবে বেড়ে গেলে বাইপাস সার্জারির বিকল্প নেই।”
সেমিনারে নেপাল থেকে আগত দশজন কার্ডিয়াক সার্জনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে কার্ডিয়াকে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সূত্র - natunbarta.com

