হরতাল-অবরোধের আগুনে দগ্ধ হওয়া রোগীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা আছে সরকারের। এ ছাড়া পুড়ে নিহত হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের স্বাবলম্বী করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জুলফিকার আলী এ কথা বলেন।
সম্প্রতি হরতাল-অবরোধে দগ্ধ মানুষের চিকিত্সাসংক্রান্ত তথ্য, বার্ন ইউনিটের সীমাবদ্ধতা, অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরতে বার্ন ইউনিট কর্তৃপক্ষ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
জুলফিকার আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের সার্বিক চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। আহত ও নিহত মানুষের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে আহতদের পুনর্বাসন ও নিহতদের স্বজনদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, চিকিত্সার জন্য দগ্ধ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের যেন কোনো টাকা খরচ করতে না হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড়াও বার্ন ইউনিটে সরকারিভাবেই ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। চিকিত্সার জন্য কেউ তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা খরচ করে ফেললে, রশিদ দেখালেই ওই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনবলের সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা পোড়া রোগীদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আসলে পেট্রলবোমা বা আগুনে যারা মানুষকে পোড়ায়, জনগণই তাদের জবাব দেবে। সব চিকিত্সক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে থেকে আমি এসব ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘সহিংসতার আগুনে পোড়া কাউকে যেন আমাদের চিকিত্সা দিতে না হয়, আমরা সেই কামনাই করি।’ তিনি বলেন, বার্ন ইউনিটকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর হলে নতুন প্লাস্টিক সার্জন তৈরিসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক সাজ্জাদ খন্দকার বলেন, মারা যাওয়া অনেকেই ৬০ ভাগের বেশি পোড়া ছিল। অনেকের শ্বাসনালি ছিল পোড়া, অনেকের ছিল ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপে দগ্ধ রোগীদের সংক্রমণের ভয় থাকে। এতে সেপটিসেমিয়া হয়ে রোগী মারা যেতে পারে। তাই সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দগ্ধদের শারীরিক চিকিত্সার পাশাপাশি মানসিক চিকিত্সাও দরকার।
শুরুতে বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, গত ২৬ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত ৭৩ দিনে হরতাল-অবরোধের সময় আগুন, পেট্রলবোমাসহ সহিংসতায় দগ্ধ হওয়া ৯৮ জন রোগীকে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। মারা গেছেন ২২ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৩০ জন।
সংবাদ সম্মেলনে গত ২ নভেম্বর পেট্রলবোমায় দগ্ধ হওয়া গীতা সেন বলেন, ‘আমি নতুন জীবন পেয়েছি। সরকারের উচিত বার্ন ইউনিটের উন্নয়নে আরও সুদৃষ্টি দেওয়া।’
সাংবাদিকদের প্রশ্ন: বার্ন ইউনিটে অনেক কর্মচারী বিনা বেতনে কাজ করেন, তাঁরা রোগীদের কাছ থেকে ড্রেসিং বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা নেন বলে অভিযোগ আছে, এমন প্রশ্ন করলে সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘বার্ন ইউনিট রাজস্ব খাতে নেই। প্রকল্পতে চলছে। যার ফলে কিছু সমস্যা আছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।’
বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীর চাপ সামাল দিচ্ছেন কীভাবে, অনেক রোগী তো ঠান্ডার মধ্যে মেঝেতে আছেন, এ প্রশ্নের জবাবে চিকিত্সক সাজ্জাদ খন্দকার বলেন, মেঝেতে যাতে রোগীরা ভালোমতো থাকতে পারেন, এ জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ বেড আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীদের চাপ ঠেকাতে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন, জানতে চাইলে সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমরা বার্ন ইউনিটের দোতলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে গণমাধ্যমের কর্মীরা যাতে তথ্য পেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হবে।’
সূত্র - প্রথম আলো

