রাজধানীতে নকল কারখানায় তৈরি হচ্ছে খাবার স্যালাইন। কলেরা ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি’র নামে এসব স্যালাইন বাজারে ছাড়া হয়েছে।
এ স্যালাইন খেয়ে সুস্থ্যতার চেয়ে অসুস্থতার ঝুঁকিই বেশি। গত এক বছর যাবৎ নকল স্যালাইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সোমবার সনাক্ত করেছে র্যাব। এ ঘটনায় দুইজনকে কারাদণ্ড ও তিনজনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানান, সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় সাতারকুলে ১০ নং আব্দুল্লাহবাগে র্যাব-১ অভিযান চালায়। এ সময় নকল স্যালাইন তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আবদুল ছিদ্দিক (৩৫), মো. নবীন খান (২৬), মো. কবির হোসেন (২৬), মো. স্বপন (২২) ও মো. মাসুদ আকনকে (৩০) আটক করা হয়।
তাদের মধ্যে ছিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড, নবীনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর তিনজনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘরে এ ভেজাল কারখানাটি গড়ে উঠেছে। নোংরা পরিবেশে কলকারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল দিয়ে আইসিডিডিআরবি স্যালাইনের নকল প্যাকেটে ভরার সময় তাদের হাতে নাতে ধরা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, “খরচ কমানোর জন্য কলকারখায় ব্যবহৃত রাসায়নিক- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, খাবার সোডা, খাবার লবণ এবং চালের গুড়া দিয়ে স্যালাইন তৈরি করছিল। পটাশিয়াম ক্লোরাইডের বস্তা পরীক্ষা করে দেখা যায় এগুলো খাওয়ার উপযুক্ত নয়।”
তিনি বলেন, “চার কক্ষের কারখানায় দিনে আট হাজার পিস স্যালাইন তৈরি করা হয়। মিটফোর্ডের মাধ্যমে এসব স্যালাইন সারা বাংলাদেশের ফার্মেসিতে এই নকল স্যালাইন ছড়িয়ে পড়ছিল। ক্ষতিকর কাঁচামাল দিয়ে নোংরা পরিবেশে তৈরি এই স্যালাইন খেলে অসুস্থ্য ব্যক্তি আরো বেশি অসুস্থ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
আটককৃতদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ফার্মা গ্রেড কাঁচা মালের দাম ৫০ কেজি সাত হাজার টাকা বিধায় খরচ কমানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কাঁচামাল দুই হাজার টাকা হিসাবে কেনে তারা।
কারখানার মালিক সিদ্দিক জানান, আগে তিনি আইসিডিডিআরবি’র কর্মচারি ছিলেন। বছর খানেক আগে তিনি এই বাড়ি ১৪ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে স্যালাইন তৈরি শুরু করেন। পল্টনের একটি প্রেস থেকে নকল প্যাকেট ছাপানো হয়। কারখানা থেকে আট টাকায় নিয়ে দোকানে ১০ টাকা দরে প্যাকেট দেয়া হয়। খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ১৫ টাকা। আইসিডিডিআরবি আসল স্যালাইন দেয় পাইকারি ১২টাকায়। তাই নকল জেনেও এসব স্যালাইন কেনে দোকানিরা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয় র্যাব-১ এর এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র - natunbarta.com

