বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এক শ্রেণির চিকিৎসকের মারমুখী আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের নেতারা৷ তাঁরা বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে আদৌ সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে সরকার গঠিত তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে এর সুপারিশ অনুযায়ী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান৷ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে চিকিৎসক একজন সাংবাদিককে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছেন, তাঁকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে৷ একই সঙ্গে শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক সফিউল আজম পেশাগত কাজে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সহযোগীদের নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়লকে মারধর করেছেন৷ সে জন্য হাসপাতাল ও সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা৷
বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়াসহ সব সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির সম্মানজনক নিষ্পত্তি হয়৷ ঘটনার জন্য দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়৷ একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকায় বারডেম ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে কতগুলো ঘটনা ঘটে৷ তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দ্রুত জ্যেষ্ঠ সম্পাদক, সাংবাদিক ও চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে বসে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়৷ ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি৷ কিন্তু এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে৷’
বিবৃতিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা সই করেন৷
সূত্র - প্রথম আলো

