পুরান ঢাকার বকশীবাজারে চিকিৎসক সেজে রক্তের ভুয়া পরীক্ষা করে তা বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি ব্লাড ব্যাংকের মালিকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার একই সঙ্গে ঢাকা ব্লাড সেন্টার নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন ব্লাড সেন্টারের মালিক মো. খোকন (৪৮), মো. রবিউল ইসলাম (১৯) ও মো. রাসেল হোসেন (২২)।
র্যাব সূত্র জানায়, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে ১ নম্বর বকশীবাজারে ঢাকা ব্লাড সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এতে র্যাব-২-এর একটি দল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন। বেলা একটা পর্যন্ত অভিযান চলে। পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকসেবীদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার সময় অভিযুক্তরা ধরা পড়েন। এ সময় কর্মচারীরা চিকিৎসক সেজে রক্তের ভুয়া পরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। তাঁদের মধ্যে খোকনকে দুই বছর ও রবিউল এবং রাসেলকে এক বছর করে সাজা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
র্যাবের ভ্রাম্যামাণ আদালত এ নিয়ে ২৭টি অভিযানে ৫১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন।
সরেজমিন: সরেজমিনে দেখা যায়, ১ নম্বর বকশীবাজারের একটি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রক্ত ব্যবসা চালানো হচ্ছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। নেই চিকিৎসক ও পরীক্ষা করার প্রযুক্তিবিদ (টেকনিশিয়ান)। এখানে রক্তদাতাদের পরিচয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিস্তারিত বিবরণীর তথ্য-উপাত্ত (রেকর্ড) সংরক্ষণ করা হয় না।
সেলিম মিয়া নামে একজন জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর আত্মীয়ের জন্য তিনি রক্ত কিনতে এসেছেন। তাঁর কাছে রক্তসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির মালিক খোকন বলেন, তাঁর কর্মচারী রবিউলকে দিয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি ও চিকিৎসকের নামের স্থলে স্বাক্ষর করিয়েছেন।
ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা প্রথম আলোকে বলেন, রক্তের পাঁচ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক (এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়া) হলেও শুধু গ্রুপ পরীক্ষা ও ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে রক্তের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। তিনি কর্মচারীদের চিকিৎসক সাজিয়ে প্রতিবেদন লেখাতেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা বলেন, এক ব্যাগ রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে তাঁরা দুই ব্যাগ রক্ত তৈরি করতেন। প্রতি ব্যাগ রক্ত বিক্রি করেন এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানান, কথিত এই ব্লাড ব্যাংকের দুই মালিক সিরাজুল হক ও সরোয়ার হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী। তাঁরা পলাতক আছেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগের প্রধান এ এইচ এম রওশন বলেন, সঠিকভাবে গ্রুপ পরীক্ষা না হওয়া রক্ত রোগীর শরীরে গেলে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে। এ অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।
সূত্র - প্রথম আলো

