ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। দেয়ালে ছোট-বড় একাধিক ফাটল। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। বিবর্ণ দেয়ালে জমেছে শ্যাওলা। এ রকম ভবনেই বসবাস করেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।
এসব বাসভবন নির্মাণের পর থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বেতনের ৪০ শতাংশ বাসাভাড়া বাবদ কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফটিকছড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নয়জন চিকিৎসক, দুজন চিকিৎসা সহকারী, ১০ জন সেবক-সেবিকাসহ ৬৫ জন কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভ্যন্তরে তিনটি ভবনে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভবনগুলোর বেশির ভাগ ফ্ল্যাটই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ভবনগুলোতে রয়েছে পানি ও বিদ্যুতের সংকট।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানান, ১৯৬০ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের থাকার জন্য একতলা ও তিনতলা বিশিষ্ট পাকা বাসভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। এরপর ভবনগুলো আর সংস্কার করা হয়নি। দুই দশক আগে ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক এস এইচ রাশেদুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা এবং আবাসিক চিকিৎসকের বাসস্থান একই ভবনের পৃথক ফ্ল্যাটে। কিন্তু এই ভবনটির চারপাশের দেয়ালে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে অনেক স্থান থেকে। ভবনের ভেতরে-বাইরে শ্যাওলায় ছেয়ে গেছে। মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হলেও এ ভবন ধসে পড়বে।
চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন মুহুরী বলেন, কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়ার ভয়ে অনেকে বসবাস করতে চান না। এগুলো এক দশক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিৎ ছিল। এ ছাড়া সেবিকা, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ কর্মচারীদের বাসভবনেরও একই অবস্থা। তার পরও তাঁরা বাধ্য হয়ে বসবাস করছেন এসব বাসভবনে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারী জোহরা খানম জানান, বেশির ভাগ বাসভবনে পানি সরবরাহের লাইন নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নাজুক। দিনে-রাতে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। হাসপাতালের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের দেয়াল ধসে পড়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবিকা মায়া চৌধুরী বলেন, সেবিকা হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সরকারি বাসভবনে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিদ্যুতের লোডশেডিং ও পানির সংকটের কারণে বাসভবনে পরিবার নিয়ে থাকাটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা দেবাশীষ দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মচারীদের কথা কী বলব, নিজেও থাকি জরাজীর্ণ বাসায়। শুধু বাসা নয়, হাসপাতালের অবস্থাও করুণ। বিষয়গুলো জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লেখা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সরফরাজ খান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, শিগগিরই চিকিৎসক কর্মচারীদের বাসভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

