নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান চার বছর ধরে কর্মস্থলে আসেন না।
গত ১৮ ডিসেম্বর ওই কেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের অবকাঠামো না থাকায় সেখানে আসেন না বলে জানান।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া সাহারা বানু জানান, এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী আসে। এ রোগী দেখেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ‘শুনেছি স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসক (এমবিবিএস) এখানে আছেন, কিন্তু তাঁকে কখনো দেখিনি।’ বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ‘চার বছর ধরে এখানে আছি। স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসককে কখনো দেখিনি।’
দিঘলিয়া গ্রামের ঝর্ণা পাল চর্মরোগে আক্রান্ত। ১৮ ডিসেম্বর সকাল নয়টা থেকে তিনি ওই কেন্দ্রে এসে চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে তিনিসহ ২০ জন রোগী চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করে।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর দিঘলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণকেন্দ্রে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি এখানে মাত্র এক দিন এসেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহীদুল ইসলাম বলেন, মিজানুর ওখানে যোগদান করলেও এটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্থাপনা। অবকাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের মৌখিক নির্দেশে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় চিকিৎসক মিজানুরকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘দিঘলিয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের অবকাঠামো না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসি। আজ ডে অফ (ছুটি), তাই আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছি। হাসপাতালে যাইনি।’
এ বিষয়ে শাহীদুল ইসলাম বলেন, গত দিন (মঙ্গলবার) ওই চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই আজ (বুধবার) তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মামুন পারভেজ জানান, তিনি পাঁচ মাস ধরে এখানে এসেছেন। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আরও জানান, কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে কাউকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া যায় না।
সূত্র - প্রথম আলো

