টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা আসমা বিনতে আনোয়ার। ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি এখানে যোগ দেন৷ এরপর থেকে এক দিনের জন্যও আসেননি৷
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি প্রেষণে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। শুধু আসমাই নন, আরও ১৩ জন চিকিৎসক টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর প্রেষণে ঢাকায় চলে গেছেন৷ ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার মানুষ৷
টাঙ্গাইলের শিক্ষাবিদ সেকান্দার হায়াৎ বলেন, মফস্বলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখানে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ তাঁরা প্রেষণে ঢাকায় চলে গেছেন, এটা অনৈতিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে৷
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চিকিৎসকের পদ রয়েছে প্রায় আড়াই শ৷ এর মধ্যে কর্মরত থাকেন ২২০ থেকে ২২৫ জন৷ কিন্তু প্রেষণে অন্যত্র থাকায় জেলায় পদায়ন থাকলেও সেবা দেন না৷ শুধু ঘাটাইল উপজেলার পাঁচজন চিকিৎসক প্রেষণে ঢাকায় রয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহানা পারভীন সাভারের বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জুয়েরী রোখসানা টঙ্গী ৫০ শয্যা হাসপাতালে, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন মো. মাহবুবুর রহমান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে, ঘাটাইল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন শায়লা নাজনীন ঢাকার কুর্মিটোলা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে, সন্ধানপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন মোহাম্মদ আবু সাইদ তালুকদার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রয়েছেন৷
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে, লায়নুন নাহার কুর্মিটোলা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে, ডেন্টাল সার্জন তাজিবা মঞ্জুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন৷ সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন নাসরীন আক্তার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, উপজেলার হাতীবান্দা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন খালেদ আহমেদুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন তানিয়া হক খিলগাঁও সরকারি ডিসপেনসারিতে (জিওডি), মির্জাপুরের গলচারা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ এজাজুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এবং ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হৃদ্রোগ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন।
সিভিল সার্জন সৈয়দ ইবনে সাঈদ বলেন, চিিকৎসকদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে৷
সূত্র - প্রথম আলো

