ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জালালপুর উদয়ন মডেল সরকারি বিদ্যালয়ে কক্ষসংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে প্রাক্-প্রাথমিক শাখার (শিশু শ্রেণী) শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে। তীব্র তাপে কাহিল হয়ে পড়ছে শিশুরা।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, চৈত্রের প্রখর রোদের মধ্যেই জরাজীর্ণ অভিভাবক বিশ্রামাগারে প্রাক্-প্রাথমিক শাখার শিশুদের পড়ানো
হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশুদের যেমন ঘাম ঝরছে, তেমনি ঝড়ছে শিক্ষকের। একটু দূরেই অভিভাবকেরা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এটি উপজেলার একমাত্র মডেল স্কুল। বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছয় শতাধিক। শিক্ষকসংখ্যা নয়জন। কিন্তু কক্ষসংকট রয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণীতে কোনো শিক্ষক না থাকায় তিনি নিজেই ক্লাস নেন। শিক্ষার মান ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিদ্যালয়ের দুটি পাকা ভবনে শ্রেণীকক্ষ রয়েছে ১০টি। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর জন্য নয়টি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি একটি কক্ষ শিক্ষকদের পাশাপাশি গ্রন্থাগারের কাজে ব্যবহার করা হয়।
মোস্তাক আহম্মেদ জানান, বাধ্য হয়ে সম্প্রতি প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণীর শতাধিক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকদের বিশ্রামাগারে (ছাউনি) স্থানান্তর করা হয়। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ছাউনির ঢেউটিন ভেঙেচুরে গেছে। তাই খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুমন সাহা বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুব কষ্ট করছে। ভাপসা গরমে অসুস্থ হওয়ার জোগাড়। জানি না ও আর কত দিন স্কুলে আসতে পারবে।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা রানী পাল বলেন, ‘বিষয়টি উচ্চপদস্থদের জানানো হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে।’
সূত্র - প্রথম আলো

