চিকিৎসার খরচ না পেয়ে সাভারের একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ক্লিনিকটির মালিক আলাউদ্দিন (৩৫), কথিত নার্স শাহানাজ বেগম (২৮), আয়া খোদেজা বেগম (৪০), দালাল হাসিনা আক্তার (২৭) ও নীলা আক্তার (২৫)।
ফরিদপুর সদর উপজেলার গোয়ালটিলা গ্রামের বাসিন্দা লাভলু মোল্লা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আশুলিয়ার কুড়গাঁও এলাকায় বসবাস করছেন।
লাভলু মোল্লার স্ত্রী মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, গত রোববার দালাল হাসিনা আক্তার তাঁকে আশুলিয়ার কুড়গাঁওয়ে ‘পিয়া মেডিকেল সেন্টার’-এ নিয়ে যান। ক্লিনিকের মালিক ও আয়া খোদেজা বেগম তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে নার্স শাহানাজ বেগম তাঁকে স্বাভাবিক প্রসব করান। বিকেলে চিকিৎসা বাবদ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে আট হাজার টাকা দাবি করে। তিনি ওই পরিমাণ টাকা দিতে অপারগতা জানালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ টাকা ছাড়া তাঁকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী ক্লিনিকে এলে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে আলাউদ্দিন ও খোদেজা টাকার পরিবর্তে তাঁদের নবজাতক পুত্রকে রেখে যেতে চাপ দেন। এ সময় খোদেজা একটি সাদা স্ট্যাম্পে তাঁর (মুন্নি) স্বাক্ষর নিয়ে নবজাতককে রেখে তাঁদের ক্লিনিক থেকে তাড়িয়ে দেন।
লাভলু মোল্লার অভিযোগ, ক্লিনিক থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার আগে এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের নবজাতক সন্তানকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে তাঁদের দেড় হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আশুলিয়া থানার এসআই নাজমুল আলম জানান, মুন্নি বেগমের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে পিয়া মেডিকেল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলাউদ্দিনসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিকের মালিক বলেন, ‘টাকা পরিশোধ করতে না পেরে মুন্নি তাঁর ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
সূত্র - প্রথম আলো

