রাজধানীর শ্যামলীর ব্যস্ত বাবর রোডে ছয়তলা ভবনে হাসপাতালটি। বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা ‘ন্যাশনাল কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল-চিকিৎসাসেবায় এক ধাপ এগিয়ে।’ কিন্তু এখানে রোগীদের অস্ত্রোপচার করেন এসএসসি ও অষ্টম শ্রেণী পাস দুই ব্যক্তি। সাধারণ ড্রিল মেশিন দিয়ে হাড় ছিদ্র করেন সাবেক এক মাছ ব্যবসায়ী!
কয়েক দিন ধরে পর্যবেক্ষণে রাখার পর গত শুক্রবার মধ্যরাতে ন্যাশনাল কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালান র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাসপাতালটি সিলগালা করে দণ্ড দেওয়া হয় মালিকসহ সাতজনকে।
হাসপাতালটির সাইনবোর্ডে ১০ জন চিকিৎসকের নাম লেখা। তবে এঁদের কেউই সেখানে বসেন না। মূলত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে দালালদের ভাগিয়ে আনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো ওই হাসপাতালে।
র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা প্রথম আলোকে বলেন, হাড়ভাঙা রোগীদের অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এসএসসি পাস মালিক বাবুল চন্দ্র পাইক ও তাঁর ভায়রা অষ্টম শ্রেণী পাস রতন কৃষ্ণ মজুমদার। রতন আগে খুলনায় ইলিশ মাছের ব্যবসা করতেন। হাসপাতালে তাঁর কাজ ছিল অস্ত্রোপচারের সময় সাধারণ ড্রিল মেশিন দিয়ে রোগীর হাত-পায়ের হাড় ছিদ্র করা। ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, এ ড্রিল মেশিনটি মিনিটে তিন হাজার ৫০০ বার (৩৫০০ আরপিএম) ঘোরে। হাড় ফুটো করার যন্ত্রের ঘূর্ণন গতি অনেক কম।
দণ্ড পাওয়া মালিক বাবুল চন্দ্র পাইক ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, তিনি সাত বছর আগে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদন নিয়ে তা বাবর রোডের ভবনটিতে স্থানান্তর করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট পাশা বলেন, এ ধরনের হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন সেবিকা থাকার কথা থাকলেও একজন মাত্র চিকিৎসককে পাওয়া যায়।
মালিক বাবুল ও তাঁর ভায়রা রতনকে এক বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্মী অন্তরা শিকদার, জুয়েল মিয়া, ইমাম হোসেন, শোভা বণিক ও মাসুম বিল্লাহকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

