নীলফামারীতে এক প্রতিবন্ধী শিশুকে চার বছর ধরে গর্তে রেখে সুস্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তার দরিদ্র পরিবার। কবিরাজের চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুটিকে রাখা হচ্ছে মাটির গর্তে।
শিশুটি নীলফামারী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় এলাকার সাইকেলের মিস্ত্রি ও বর্গাচাষি রতন ঋষির মেয়ে নয়মী ঋষি (৫)।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় চুলা জ্বলছে। পাশে একটি গর্তে রেখে শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন তার মা রঞ্জনা ঋষি (২০)।
রঞ্জনা ঋষি জানান, নয়মী কথা বলতে পারে না। সে নিজের পায়ে দাঁড়াতেও অক্ষম। নিজের হাতে খাবারও খেতে পারে না। এক বছর বয়সে তার এ অসুখ ধরা পড়ে। প্রথম দিকে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। চিকিৎসকের খরচ জোগাড়ের ক্ষমতা তাঁদের ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রাম্য কবিরাজের কাছে যান। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। এখন তাকে সুস্থ করতে বাড়ির আঙিনায় বুকসমান গর্ত করে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ওকে গর্তে দাঁড় করিয়ে রেখে আমরা কাজকর্মে যাই। এতে করে সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কিছুটা সুস্থ হবে বলে এমনটা করছি। তা ছাড়া বাড়িতে রাখলে হামাগুড়ি দিয়ে কোথাও গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সারা দিন মাটিতে থাকার কারণে তার কোনো সমস্যা হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতের সময় বেশিক্ষণ রাখলে সর্দি জ্বর হয়। তবে প্রায় চার বছর ধরে এভাবে গর্তে রাখা হলেও শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
নয়মী ঋষির বাবা রতন ঋষি বলেন, ‘নিজের কোনো জমিজমা নেই। বর্গায় কিছু জমি চাষ করি আর সাইকেল মেরামত করে যে আয় হয় তাতে সংসারই চলে না। মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে? অনেকে বলে বড় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মেয়েটা সুস্থ হবে। কিন্তু টাকার অভাবে নিয়ে যেতে পারছি না। দিনে দিনে মেয়েটা বড় হচ্ছে, সমস্যাও বাড়ছে।’
ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি তার পরিবার বা অন্য কেউ আমাকে জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’
সূত্র - প্রথম আলো

