রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ৷ যন্ত্রটির ব্যাটারিও নষ্ট হওয়ায় এটিও এক বছর ধরে বিকল৷ ফলে উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত৷
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগ ও জরুির বিভাগে ৩০০-৪০০ রোগী চিকিত্সা নিতে আসে৷ তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রতিদিন সাত-আটজনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়৷ কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় তা করা যাচ্ছে না৷ এ ছাড়া যন্ত্রটি অকেজো হয়ে পড়ায় প্রতিদিন ১০-১২ জন রোগীকে রংপুর গিয়ে এক্স-রে করতে হচ্ছে৷
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, সরকাির হাসপাতালে এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তা করাতে হচ্ছে৷ যন্ত্রটি এক বছর আগে নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষ সেটি ঠিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে না৷
হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার সিরাজুল ইসলাম বলেন, যন্ত্রটির ১২ ভোল্টের ৩০িট ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় এটি চালু করা যাচ্ছে না৷
অ্যাম্বুলেন্সচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটির রিং, পিস্টন, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে৷ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিশ্চিত করতে না পারায় আমাকে প্রতিনিয়ত রোগীর স্বজনদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে৷’
সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ লোকের বসবাস৷ প্রতিদিন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক মানুষ চিকিত্সা নিতে আসে৷ অথচ এখানের অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে৷ এ কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে৷
হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কুশার ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যথাসময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারায় গত এক বছরে আট-নয়জন রোগী মারা গেছে৷
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার বলেন, নতুন অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে যন্ত্রটির নতুন ব্যাটারির জন্য জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে৷ কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না৷
সূত্র -প্রথম আলো

