চিকিত্সায় ত্রুটির কারণে পাইলসের অস্ত্রোপচার হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা আরশেদুল ইসলামের (৬১) ডান পা অবশ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সম্প্রতি নাটোরের সিংড়া উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ওই অস্ত্রোপচার করা হয়৷
স্বজনেরা জানান, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরের বাসিন্দা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আরশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পাইলস রোগে ভুগছিলেন৷ গত ১৭ জানুয়ারি তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেসরকারি আল-হেরা ক্লিনিকে যান৷ ক্লিনিকের মালিক আবদুল আহাদ তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে বলেন৷ এ জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল৷ কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি না আসায় আহাদ আলী নিজেই ক্লিনিকের একজন নার্সকে নিয়ে ওই অস্ত্রোপচার করেন৷
আরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে আমার মেরুদণ্ডে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়৷ এতে তাত্ক্ষণিকভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে শরীরে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে৷ একই সময় ডান পায়ে ঝিমুনি ধরে এবং শরীরের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যায়৷ এরপর কক্ষে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়৷ এর এক ঘণ্টা পর আমাকে সাধারণ কক্ষে নেওয়া হয়৷ অস্ত্রোপচারের পর ছয় দিন ক্লিনিকে থাকার পর আমার বাঁ পায়ে অনুভূতি ফিরে এলেও ডান পায়ে অনুভূতি ফিরে আসেনি৷ এরপর আমাকে বাড়িতে পঠিয়ে দেওয়া হয়৷ বাড়িতে আসার পর এখন পর্যন্ত আমার ডান পায়ে কোনো অনুভূতি পাচ্ছি না৷ বাঁ পা-ও এখন অবশ হতে চলেছে৷ চিকিত্সক বলেছেন, বিশ্রাম নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে৷ কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে৷ বিষয়টি একাধিকবার চিকিত্সককে বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না৷’
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক চিকিত্সক আবদুল আহাদ বলেন, ‘রোগী শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন৷ অবেদনের ইনজেকশন দেওয়ার সময় তিনি ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠেন৷ এ কারণে সুচটি স্থানচ্যুত হয়ে পড়ায় ইনজেনকশনের কিছু ওষুধ মেরুদণ্ডের বাইরে ঢুকে পড়ে৷ এ জন্য তেমন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়৷ শুনেছি তাঁর পা অবশ হয়েছে৷ তবে বিশ্রাম নিলে কিছুদিনের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যাবে৷ তার পরও তাঁকে ঢাকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে দেখানোর জন্য বলা হয়েছে৷’ তিনি সার্জন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আহাদ বলেন, ‘আমি একজন নিউরোসার্জন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত৷ এই অস্ত্রোপচার সাধারণ সার্জনরা করে থাকেন৷ পাইলসের অস্ত্রোপচার ছোট বিধায় আমারও অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ সে কারণেই অস্ত্রোপচার নিজে করেছি৷’
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অবেদনবিদ ও অস্ত্রোপচারের ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিত্সক আবদুর রাজ্জাক জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য নিন্মাংশ অবশ করতে মেরুদণ্ডে ইনজেকশন সঠিকভাবে দিতে হয়৷ এই কাজ দক্ষ চিকিত্সক দিয়ে করতে হয়৷ সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে অনেক সময় স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে রক্ত জমে দুই পা অবশ বা প্যারালাইসিস হতে পারে৷ তবে সেটি বেিশ দিন থাকে না৷ যদি বেিশ দিন থাকে তাহলে অবশ্যই মেরুদণ্ডের পরীক্ষা করার পর স্পাইনাল কর্ডের অস্ত্রোপচার করে রক্ত বের করে দিতে হবে৷ তাহলে হয়তো রোগী আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে৷
সূত্র -প্রথম আলো

