![]()
পাইলস
পাইলসের কোনও সঠিক সংজ্ঞা এখনও চিকিত্সকদের জানা নেই। কারণ এ রোগটির আসল প্রকৃতি এখনও পুরোপুরি বোধগম্য নয়। পাইলস বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারের ভেতরে ফুলে উঠা রক্তের শিরার একটি মাংসপিণ্ড। এ শিরার উত্পত্তির ব্যাপারে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। এ রূপ রক্তের শিরার মাংসপিণ্ড বা কুশন সব মানুষের রয়েছে। তাই প্রকৃত অর্থে পাইলস বা হেমোরয়েড আমরা তখনই বলি, যখন এটি কোনওরূপ উপসর্গ সৃষ্টি করে। যেমন মলদ্বারের বাইরে ঝুলেপড়া মাংসপিণ্ড অথবা রক্ত যাওয়া। সব মানুষেরই ৩টি পাইলস বা কুশন আছে। বড় পাইলসের মধ্যখানে ছোট-ছোট পাইলসও থাকতে পারে। মল ত্যাগ করার সময় শিরাগুলো কিছুটা ঝুলে পড়ে এবং রক্তভর্তি হয়ে ফুলে ওঠে, তারপর ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়।
কয়েক শতাব্দীর গবেষণা সত্ত্বেও পাইলসের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয়নি। পাইলস ২ প্রকার। এর একটি বহিঃস্থিত পাইলস। এক্ষেত্রে মলদ্বারের বাইরে ফোলা থাকে ও কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। আরেকটি হল অভ্যন্তরীণ পাইলস। এক্ষেত্রে টয়লেটে টাটকা লাল রক্ত দেখা যায়। কোনওরূপ ব্যথা থাকে না। মলত্যাগের শেষে রক্ত যায়। রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় যায় আবার কখনও বেগে যায়। রক্ত যাওয়ার পর যদি বেশি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় তাহলে এনালফিশার বা ক্যান্সার হতে পারে।
রক্ত যেতে যেতে রোগী রক্তশূন্যতায় ভুগতে পারেন। মলদ্বারের বাইরে পাইলসটি ঝুলে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে মলত্যাগের শেষে পাইলসটি আপনা-আপনি ভেতরে ঢুকে যেতে পারে অথবা রোগী হাত দিয়ে চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে পারেন। যখন এটিকে চাপ দিয়ে ঢুকানো যায় না, তখন একে চতুর্থ ডিগ্রি পাইলস বলে। রক্ত যাওয়া কখনও একটানা চলে না। প্রথমত, বছরে এক বা দুবার যায়, এরপর ২ মাস পর-পর যায়। তারপর প্রতিমাসে যায়। শেষে ঘন-ঘন রক্ত যায় এবং রক্ত যাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। যখন মরা রক্ত যায় বা আমমিশ্রিত রক্ত যায় ও পায়খানার শুরুতেই রক্ত যায়, তখন আমরা ক্যান্সার বলে সন্দেহ করি। তবে পায়ুপথ বা বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারে টাটকা লাল রক্ত যেতে পারে।

