home top banner

Health Tip

পাইলস কী এবং এর প্রতিকার
17 February,14
Tagged In:  piles problem  constipation problem  
  Viewed#:   1950

piles-problempiles-problemপাইলস 
পাইলসের কোনও সঠিক সংজ্ঞা এখনও চিকিত্সকদের জানা নেই। কারণ এ রোগটির আসল প্রকৃতি এখনও পুরোপুরি বোধগম্য নয়। পাইলস বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারের ভেতরে ফুলে উঠা রক্তের শিরার একটি মাংসপিণ্ড। এ শিরার উত্পত্তির ব্যাপারে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। এ রূপ রক্তের শিরার মাংসপিণ্ড বা কুশন সব মানুষের রয়েছে। তাই প্রকৃত অর্থে পাইলস বা হেমোরয়েড আমরা তখনই বলি, যখন এটি কোনওরূপ উপসর্গ সৃষ্টি করে। যেমন মলদ্বারের বাইরে ঝুলেপড়া মাংসপিণ্ড অথবা রক্ত যাওয়া। সব মানুষেরই ৩টি পাইলস বা কুশন আছে। বড় পাইলসের মধ্যখানে ছোট-ছোট পাইলসও থাকতে পারে। মল ত্যাগ করার সময় শিরাগুলো কিছুটা ঝুলে পড়ে এবং রক্তভর্তি হয়ে ফুলে ওঠে, তারপর ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়। 

বয়স ৩০-৬০ বছরের ভেতর এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ২০ বছর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটি দেখা যায় না। পাইলস শনাক্ত করা সহজ কাজ নয়। একজন অভিজ্ঞ চিকিত্সক শুধু যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস শনাক্ত করতে পারেন। কখনও-কখনও টয়লেটে বসিয়ে কোঁত দিয়ে দেখতে হয়। আমাদের কাছে চিকিত্সকরা রোগী পাঠান পাইলস আছে বলে। কিন্তু পরীক্ষা করে আমরা হয়তো পাই এনালফিশার, পলিপ বা ফিস্টুলা। অর্থাত্ মলদ্বারের যে-কোনও রোগকে সবাই পাইলস হিসেবে জানেন। কিন্তু এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। এ রোগ মহিলাদের চেয়ে পুরুষের কিছুটা বেশি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ কোনও না কোনও সময় পাইলসের সমস্যায় ভোগেন।

কারণ :
কয়েক শতাব্দীর গবেষণা সত্ত্বেও পাইলসের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয়নি। পাইলস ২ প্রকার। এর একটি বহিঃস্থিত পাইলস। এক্ষেত্রে মলদ্বারের বাইরে ফোলা থাকে ও কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। আরেকটি হল অভ্যন্তরীণ পাইলস। এক্ষেত্রে টয়লেটে টাটকা লাল রক্ত দেখা যায়। কোনওরূপ ব্যথা থাকে না। মলত্যাগের শেষে রক্ত যায়। রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় যায় আবার কখনও বেগে যায়। রক্ত যাওয়ার পর যদি বেশি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় তাহলে এনালফিশার বা ক্যান্সার হতে পারে। 

রক্ত যেতে যেতে রোগী রক্তশূন্যতায় ভুগতে পারেন। মলদ্বারের বাইরে পাইলসটি ঝুলে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে মলত্যাগের শেষে পাইলসটি আপনা-আপনি ভেতরে ঢুকে যেতে পারে অথবা রোগী হাত দিয়ে চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে পারেন। যখন এটিকে চাপ দিয়ে ঢুকানো যায় না, তখন একে চতুর্থ ডিগ্রি পাইলস বলে। রক্ত যাওয়া কখনও একটানা চলে না। প্রথমত, বছরে এক বা দুবার যায়, এরপর ২ মাস পর-পর যায়। তারপর প্রতিমাসে যায়। শেষে ঘন-ঘন রক্ত যায় এবং রক্ত যাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। যখন মরা রক্ত যায় বা আমমিশ্রিত রক্ত যায় ও পায়খানার শুরুতেই রক্ত যায়, তখন আমরা ক্যান্সার বলে সন্দেহ করি। তবে পায়ুপথ বা বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারে টাটকা লাল রক্ত যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়
এ রোগ-প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার চিকিত্সা করা, টয়লেটে বসে-বসে পেপার বা বই না পড়া, খাবারের সঙ্গে আঁশজাতীয় জিনিস যেমন— ফল, সবজি, সালাদ পরিমাণমতো খাওয়া, দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা, ভারী ওজন না তোলা, অতিরিক্ত গরমে বেশিক্ষণ না থাকা ইত্যাদি। 

সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ
Previous Health Tips: হাত নাড়তে যখন ব্যথা

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')