পাবনার বেড়া ও এর পাশের দুই উপজেলায় গত ১৫ দিনে দেড় শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্তিক কুমার সাহা বলেছেন, গরমের মধ্যে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ যেখানে-সেখানে গিয়ে পানি খাচ্ছে, খোলা খাবার খাচ্ছে। এতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলায় ডায়রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাস খানেক আগেও উপজেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গরমের তীব্রতা বাড়ায় গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। গত মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। আর ২৩ মার্চ থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত ১৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বেড়া উপজেলার এবং বাকিরা পাশের সাঁথিয়া ও শাহজাদপুর উপজেলার। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু থেকে বৃদ্ধ—বিভিন্ন বয়সের লোক রয়েছেন।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হাটুরিয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৪৫) বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে আমি রাস্তায় বসা এক দোকানের থ্যা ডাইলের বড়া কিন্যা খাইছিলাম। ১০ জনে যে গ্লাসে পানি খায়, আমিও সেই গ্লাসে পানি খাইছিলাম। হাটের থ্যা বাড়িত যাওয়ার পর আমার পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীর চেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রকৃত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন।
চিকিৎসক কার্তিক কুমার সাহা বলেন, অসচেতন লোকজন ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই মাছির উপদ্রব বেড়ে গেছে। যেসব বাড়িতে খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে না বা খাবারে মাছি বসছে, সেসব বাড়ির লোকজন ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

