নিষ্ঠা আর সততা কিংবা সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সম্পদে সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে ভাল কিছু করা যায় তার বাস্তব প্রমাণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ন্যায়নীতি, সততা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক চিকিত্সাসেবা মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে। শুধু চিকিত্সাসেবা নয়, উচ্চতর শিক্ষামানের ক্ষেত্রে একইভাবে উন্নীত হয়েছে।
ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের উন্নত চিকিত্সাসেবা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিয়মিত চালিতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতা সংগ্রহের কার্যক্রম। এভাবে প্রতিষ্ঠানে আজ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার অন্যতম কারণ। এর পেছনে যোগাযোগ, শ্রম ও মেধা দিয়ে সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাক, কান ও গলা বিষয়ে খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ইত্তেফাককে বলেন, প্রোভিসি, অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধানসহ সকলস্তরের চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সদের সহযোগিতায় আজ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হওয়ার পেছনে অবদান রেখেছেন। এককভাবে কারো পক্ষে এ ধরনের উন্নীত করা সম্ভব নয়।
সিনিয়র অধ্যাপকগণ বলেন, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ভিসি হিসেবে যোগদানের পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা কর্ণধার যদি সত্, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ হন তাহলে সেই ক্ষেত্রে কেবল এত উন্নয়ন সম্ভব বলে তারা জানান।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প টাকা ফি দিয়ে বহির্বিভাগে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সজল ব্যানার্জীসহ কিছুসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে বহির্বিভাগে অপরাহ্নে দেখানো সম্ভব। ঐ সব বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈকালিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন। ২০ টাকার মূল্যের টিকেট নিয়ে নিম্নে ১শ' থেকে ২শ' টাকা ফি দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের দেখাতে পারেন। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগী উপকৃত হচ্ছেন।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বহির্বিভাগে নাক, কান, গলা, ইন্টারনাল মেডিসিন, রিউমাটোলজি, এন্ডোক্রাইনোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, শিশু, চর্ম ও যৌন রোগ, কার্ডিওলজি, অবস অ্যান্ড গাইনী, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, চক্ষু, নেফ্রোলজি, নিউরো মেডিসিন, মনোরোগ, হেপাটোলজি, সার্জারি, অর্থোপেডিক সার্জারি, পেইন ক্লিনিক ও হেমাটোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা নিয়মিত অপরাহ্নে স্বল্প ফি দিয়ে রোগী দেখছেন। গত বছর বহির্বিভাগে অপরাহ্নে নিয়মিত প্রায় এক লাখ রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা দেখেছেন। চিকিত্সাধীন রোগী ও অপারেশনসহ এ নিয়ে গত বছর প্রায় ৯ লাখ রোগীর চিকিত্সাসেবা ও অপারেশন করেছেন।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

