রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাক্তিদের চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরিক্ষা দেশের পাবলিক হাসপাতালে নেওয়া এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের (অধ্যাপক) বেতন কাঠামো সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা নির্ধারণসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্ট ও হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের নেতারা। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্ট ও হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান তুষার রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রাসঙ্গিক প্রটোকলসহ ৩১ জন সদস্য সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ ও চোখের চিকিৎসা গ্রহণের ফলে এ দেশে শীর্ষ ও বিশিষ্ট নাগরিকের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটাবস্থা প্রমাণ করে।’ ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল কথা ছিল স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতাপূর্ব বৈষম্য কমিয়ে আদর্শিক পরিবার রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবাখাতসহ শিক্ষা ও চিকিৎসার মান আজ কমছে একথা চিকিৎসা বিজ্ঞানীসহ শিক্ষিত পণ্ডিতরাই বলাবলী করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের গণস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। চিকিৎসা ও স্বাস্থসেবা এবং শিক্ষা এখন উচ্চ মূল্যের পণ্য। সুচিকিৎসা আজ অধিকাংশ জনগোষ্ঠি তথা সাধারণ মানুষের সামর্থের বাইরে। মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনৈতিক ও ধনিক শ্রেণির লোকজন চিকিৎসা নিতে মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর, ব্যংকক যান। অথচ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রয়েছে সার্বক্ষনিক সুব্যবস্থা।’ মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘দেশের উপর মহলে বসবাসকারী এলিট শ্রেণির চিকিৎসাস্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে নিয়মিত বিদেশ যাত্রার সচিত্র খবর দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সুচিকিৎসার সংকট প্রমাণ করেছে। দেশের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এর বাইরে যাদের বসবাস তারাও চিকিৎসা সেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রকৃত বিচারে স্বদেশে বড় জোর ১০শতাংশ মানুষ সর্বোচ্চ অর্থমূল্যে ব্যায়ে এই সুবিধা পাচ্ছেন।’ এসময় মানববন্ধনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-বিদেশ নয়, রাষ্ট্রপতিসহ শীর্ষ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দেশের পাবলিক হাসপাতালে নিতে হবে। সকল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের বেসরকারি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ করতে হবে। চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা ফি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারীতে রাখতে হবে। মৃত ব্যক্তিকে লাইফ সাপোর্টে রেখে জিম্মি করে টাকা লুট বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি হাসপাতালে সহনীয় মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বৈকালিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা। ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ শহীদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইনিশিয়েটিভ ফর পিসের(আইএফপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, আমজনতা দলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিশিষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সেবার নির্বাহী পরিচালক ড.মুহাম্মদ নুরুদ্দিন প্রমূখ। -
সূত্র - risingbd.com

