সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ২০০৮ সালে ২৫ লাখ টাকা খরচ করে সি-অ্যাম্বুলেন্স কেনা হলেও চালক না থাকায় এটি ব্যবহূত হচ্ছে না। ফলে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজনে চট্টগ্রাম শহরে সংকটাপন্ন রোগী পরিবহনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট এলাকায় স্লুইস গেইটের নিচে অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালে সন্দ্বীপের জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা দামের এ সি-অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হয়। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল অ্যাম্বুলেন্স বুঝে নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া জ্বালানি খরচ কোথা থেকে আসবে এ ব্যাপারেও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১১ সালে জানুয়ারি মাসে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে অস্থায়ীভাবে একজন চালক ও জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করে সি-অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর চলার পর এ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রোকনুল আবেদীন বলেন, ‘সন্দ্বীপে কেউ অসুস্থ হলে তাকে জরুরিভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য শহরে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। সন্দ্বীপের অবস্থানের কথা বিবচনা করে সি-অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা উচিত।’
সন্দ্বীপ অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ সি-অ্যাম্বুলেন্সটি সন্দ্বীপের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।
তবে এটি অব্যবহূত পড়ে থাকায় রোগীরা সুফল পাচ্ছেন না। তা ছাড়া এটির রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না। সন্দ্বীপের জটিল রোগীদের কথা ভেবে স্থানীয় প্রশাসনের উচিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর ব্যবস্থা করা।’
সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ‘সি-অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন অচল থাকার কারণে যান্ত্রিকত্রুটি দেখা দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটির কোনো চালক নেই। এ ব্যাপারে আমি
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
সূত্র - প্রথম আলো

