সম্প্রতি দুই দফায় কর্মচারী ছাটাইয়ের কারণে জনবল সংকটে পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। এর ফলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে রোগীদের সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে এমএলএসএস পদের সংখ্যা ২২৪টি। এর বিপরীতে কাজ করছেন ১৮৬ জন। সুইপার পদের সংখ্যা ১৩৮টি থাকলেও বর্তমান কাজ করছেন ১০৬ জন। নিরাপত্তা প্রহরী (রাজস্ব) পদ ১৭টি থাকলেও বর্তমানে ১৩ জন কর্মরত আছেন। ঘাটতি মেটাতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে ৫৩ জন। এর মধ্যে ২৩ জন সুইপার এবং ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া রয়েছেন। রামেক হাসপাতালে বর্তমানে যে জনবল নিয়োগ আছে তা ১৮টি ওয়ার্ডের ওপরে ভিত্তি করে। বর্তমানে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩৬টি। ফলে পূর্বের নিয়োগকৃতরাই দ্বিগুণ ওয়ার্ডে কাজ করছেন। আর এ কারণে অল্প সংখ্যক কর্মচারী দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত ৯৩ জন কর্মচারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৭৮ জন কর্মচারীকে বাদ দেওয়া হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইবার কর্মচারী বাদ দেয়ায় জনবলের অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ঠিকমতো রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। এর ফলে রামেক হাসপাতালের জরুরি ও বর্হিবিভাগে রোগীদের দুর্ভোগ চোখে পড়ার মতো। গত মঙ্গল ও বুধবার বহির্বিভাগে ১০টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে ৩টি জনবলের অভাবে বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও একই অবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী জানান, জনবল সংকটের কারণে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীদের ট্রলিতে করে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মচারী পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে রোগীর নিকটাত্মীয়রাই ট্রলি ঠেলে রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সংকট রাতে আরো চরমে ওঠে। এদিকে চতুর্থ শ্রেণির পাশাপাশি রামেক হাসপাতালে তৃতীয় শ্রেণির জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করছে। হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৩৫ জন। তবে এ জনবল ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য। বর্তমানে ৩৬টি ওয়ার্ডের সব কাজ ওই ১৩৫ জন কর্মচারী করে থাকেন। বর্তমানে প্রস্তাবিত তৃতীয় শ্রেণির পদের সংখ্যা ২৬৬টি। জনবল সংকট নিয়ে রামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আসম বরকতুল্লাহ জানান, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। নতুন পরিচালক যোগদানের পরেই এ বিষয়টির সমাধান করা হবে।
সূত্র - risingbd.com

