স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তষ্ট নন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তবে গত কয়েক বছরে বাহক বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সঙ্কট রয়েছে সত্যি। এ জন্য সরকার স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। যার সুফল জনগণ ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছেন। আমাদের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারলে স্বাস্থ্য খাত ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১৪’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মশা-মাছি দূরে রাখি : রোগ বালাই মুক্ত থাকি।’ এবছর জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বান্দরবন জেলা সদরে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য জেলা ও উপজেলা সদরেও বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি নেয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এনোফিলিস মশা বাহিত ম্যালেরিয়া রোগ বর্তমানে দেশের ১৩টি জেলায় বিরাজ করছে। জেলাগুলো হচ্ছে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভিবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম। এর মধ্যে তিনটি জেলার মানুষ বেশি আক্রান্ত । বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অধিক প্রবণ, কক্সবাজার মধ্য প্রবণ এবং বাকি জেলাগুলোতে ম্যালেরিয়া স্বল্প প্রবণ হিসেবে দেখা হয়।
তিনি বলেন, দ্রুত রোগ সনাক্তকরণ, কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং ব্যাপক হারে কীটনাশকযুক্ত মশারী ব্যবহারের ফলে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। ২০০৮ সালে ৮৩ হাজার ম্যালেরিয়া রোগী ছিল। ২০১৩ সালে তা ৭০ শতাংশ কমে ২৬ হাজারে নেমে এসেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান নগরায়নের সাথে এডিস মশার বংশ বিস্তার ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে এডিস মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কেবল এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, বেলে মাছি বাহিত কালাজ্বর একটি মারাত্মক রোগ। দ্রুত রোগ সনাক্ত করণ, কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা ও কীটনাশকের ব্যবহারে বেলে মাছি নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশে কালাজ্বর নির্মূলের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছে। ২০১৩ সালে কালাজ্বরের রোগীর সংখ্যা কমে দেড় হাজারে নেমে এসেছে। রোগীর সংখ্যার দিক হতে ৯০ ভাগ কমার পাশাপাশি আক্রান্ত উপজেলার সংখ্যাও ৯০ ভাগ কমেছে।
সূত্র - risingbd.com

