বরিশালে গত এক মাসে গড় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের গুণগত মান কমে যাওয়া, এমনকি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজারের অধিকাংশ ওষুধের মোড়কের গায়ে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক মাসে বরিশালের তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিভাগীয় শহরের বেশির ভাগ ওষুধের দোকানেই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নেই। ফলে ওই নির্দেশিত তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।
বরিশাল অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল টেকনোলজির শিক্ষক সুদীপ কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সারা বছরের বেশির ভাগ সময় ওষুধ সংরক্ষণে কোনো সমস্যা নেই। এপ্রিল মাসে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পড়লে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু ওষুধের দোকানগুলোতে এ ব্যবস্থা না থাকায় ওষুধের গুণগত মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত কয়েক দিনে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক, কবি জীবনানন্দ দাশ সড়ক, হাসপাতাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার ওষুধের অধিকাংশ দোকানে রেফ্রিজারেটর নেই। দু-একটি দোকানে একটি করে রেফ্রিজারেটর থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ওষুধ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালসংলগ্ন এলাকার লাইফ মেডিসিন মার্টের মালিক মো. আনছারী আহম্মেদ বলেন, ‘অনেক ওষুধেই লেখা থাকে, ৩০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু আমাদের ফার্মেসি তো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। তবে বিশেষ কিছু ওষুধ আমরা রেফ্রিজারেটরে রাখতে পারি। বাকি ওষুধ শেলফেই রাখতে হয়।’
হাবিব মেডিকেল হলের মালিক অরুণ ঘোষ বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণে তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনশীল ওষুধ উৎপাদন করা। তা না হলে সমস্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাজপাতালের হূদরোগ বিশেষজ্ঞ জাকির হোসেন বলেন, হূদরোগের ওষুধগুলো সাধারণত একটু স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। এগুলো যে তাপমাত্রায় রাখার জন্য বলা হয়, সেই তাপমাত্রায়ই রাখা উচিত। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ওষুধের কার্যকারিতা কমতে পারে। পাশাপাশি কার্যকারিতা পুরোপুরি হারাতেও পারে।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ফার্মাসিউটিক্যাল প্রফেশনালসের (বিএসপিপি) বরিশাল অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক কেমিস্ট কাজল ঘোষ বলেন, সাধারণত ওষুধ প্রস্তুত করার সময় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উৎপাদন করা হয়। সেই অনুযায়ী তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছালে ওষুধের গুণগত মান কমে যেতে পারে বা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।
সূত্র - প্রথম আলো

